প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩৪ পিএম
আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩৪ পিএম
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (মাঝে)। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পুনরায় ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলামের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।
এ দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর কফিল উদ্দিন ৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালের এক-এগারো পরিস্থিতির একজন গুরুত্বপূর্ণ কুশীলব ছিলেন এবং রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয় আদালতে তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করে বলেন, তার মক্কেল গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং প্রতিদিন তাকে ২১টি ওষুধ সেবন করতে হয়।
তাকে হাসপাতাল থেকে জোরপূর্বক আদালতে আনা হয়েছে বলেও দাবি করে অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান তিনি।
তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে ঢাকার বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ডিবির একটি বিশেষ দল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে মানবপাচার সংক্রান্ত মামলায় ঢাকার পল্টন মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তিনি তিন দফায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
এর আগে মিরপুরের হত্যা মামলায় ৭ এপ্রিল ও ১১ এপ্রিল দুই দফায় ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সব মিলিয়ে ছয় দফায় তিনি ২৫ দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকাল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফলপট্টিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।
তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, আফজাল নাছেরের পরোক্ষ নির্দেশনায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয় সেদিন।
ওই হামলায় দেলোয়ার হোসেন (৪০) গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।