প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৬ পিএম
হেলমেট-বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছাড়াই এজলাসে উঠানো হয় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকার লালবাগ থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা মঙ্গলবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে পুলিশি প্রহরায় তাকে হাজির করে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে বিকেল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তাকে অন্যান্য আসামিদের মত হেলমেট- বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছাড়াই এজলাসে উঠানো হয়েছে। তবে রিমান্ড শুনানিতে আদালতের কাঠগড়ায় প্রায় ২০ মিনিট নিশ্চুপ থাকতে দেখা গিয়েছে তাকে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন প্রথমে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এরপর আরেক আবেদনে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড চান।
তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা এবং শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়িত ছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্দেশে এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কৌশলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান বলেও উল্লেখ করা হয়। তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয়, গ্রেপ্তার এবং মামলার রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে দাবি করা হয়।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তার দুই দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকেন্দ্রিক এই মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা নেই। তিনি বিগত সরকারের সময়ে কোনো অন্যায় বা লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং একজন ‘ক্লিন ইমেজের’ ব্যক্তি। দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তিনি অসুস্থ বলেও উল্লেখ করা হয়। তাই তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে দাবি করেন তারা।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিকেল ৩টা ২৭ মিনিটে আদালত তার জামিন ও রিমান্ড, উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।
এ সময় আসামিপক্ষের এক আইনজীবী আদালতকে জানান, শিরীন শারমিন কথা বলতে চান। তবে আদালত তাকে কথা বলার অনুমতি দেননি। পরে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে পুলিশি প্রহরায় তাকে আদালত থেকে বের করে আবার হাজতখানায় নেওয়া হয়।
আদালতে হট্টগোল, সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া
রিমান্ড শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালতে চরম বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। আদেশ ঘোষণার পরপরই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এজলাসের ভেতরে হৈচৈ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুরো পরিস্থিতিতে বিচারক নির্লিপ্ত ছিলেন।
একপর্যায়ে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়ে বিচারক আদালতে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাদের এজলাস থেকে বের করে দেন। এ সময় পিপি ওমর ফারুক ফারুকী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণে আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিচারিক পরিবেশে এমন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।