রিমান্ড শুনানির পর মঙ্গলবার আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীরকে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক মনিরুল ইসলাম আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
এদিন তাকে হাজির করে (ডিবি) পুলিশ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর কফিল উদ্দিন তাকে উপস্থাপন করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিলসহ জামিন আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
এর আগে মানবপাচারের অভিযোগে ঢাকার পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় তিন দফার মোট ১৪ দিনের রিমান্ড শেষ হয়, এবং আজ আদালতে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করেন দেলোয়ার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন ।
এর আগে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে ডিবির একটি বিশেষ দল রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার ফলপট্টিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ৫০০ থেকে ৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, আফজাল নাছেরের পরোক্ষ নির্দেশনায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন (৪০) গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয় এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
এই ঘটনার প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা (এফআইআর নং-২৫) দায়ের করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মামলার প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়েছে।