প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৩ পিএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:১৯ পিএম
কেরাণীগঞ্জে গ্যাস লাইটার কারখানায় আগুন। ফাইল ছবি
ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকায় অবস্থিত একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদের আদালত সোমবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এদিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম রবিবার তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদলত শুনানির জন্য সোমবার তারিখ নির্ধারণ করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৫ এপ্রিল আসামি মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে (৫০) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আবেদনে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল দুপুরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে মজুতকৃত দাহ্য পদার্থ বা গ্যাস লাইটারের কাঁচামাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও বলা হয়, আসামি এই মামলার ঘটনার মূল হোতা। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামী আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিটির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কারণে ঘটনাটির সূত্রপাত। এর ফল অনেক লোক মারা যায় ও গুরুতর আহত হয় ঢাকা বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক। এই আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদসহ অভিযান পরিচালনা করলে মূল রহস্য উদঘাটন ও তার সহযোগী এজাহারনামীয় অপরাপর পলাতক আসামিদের এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আসামিকে দশ দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানাধীন কদমতলী এলাকায় আমবাগিচা ডিবজলের গলিতে অবস্থিত মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। এতে ৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রাথমিক তদন্তাকলে জানা যায়, আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে ৮ থেকে ১০ বছর ধরে অনুমান ৫০/৬০ জন শিশু, মহিলা, পুরুষ শ্রমিক নিয়ে ফ্যাক্টরিটি পরিচালনা করে আসছে। একাধিক সময়ে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহীনি, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করে ফ্যাক্টারি বন্ধ ও সিলগালা করা হলেও অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৭ জন আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পুনরায় ফ্যাক্টরির সামনের গেটে তালাবদ্ধ করে ভিতরে লুকিয়ে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে কার্যক্রম চলমান রাখে। এর ফলে বহু মানুষ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়। উল্লেখিত আসামিরা এলাকায় পেশী শক্তির মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিতে অবৈধভাবে শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়।
এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল রানা আসামি ইমান উল্লাহসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- কারখানাটির মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম এবং তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম।