প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৫:২১ পিএম
আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি: ফেসবুক থেকে
দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।
মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল টানা তিন মেয়াদে (২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য এবং বর্তমানে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।
১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন পেশা শুরু করেন কাজল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসের অনুমতি লাভ করেন এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০২৩ সালে তাকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
সাংবিধানিক আইনের জটিল ব্যাখ্যায় বিশেষ দক্ষতার জন্য তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদালতে মতামত দিয়েছেন। বিশেষ করে ষোড়শ সংশোধনী রিভিউ, পঞ্চদশ সংশোধনী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী রিভিউ মামলায় তার যুক্তিতর্ক আইনজীবী মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এসব মামলায় তার উপস্থাপনা আদালতের বিচারকদের কাছেও গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়া খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পক্ষে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তার আইনগত দক্ষতা বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
এছাড়া ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডনে কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। যশোর বোর্ড থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে পুনরায় এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন এবং লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল’ সনদ অর্জন করেন।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন কাজল। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির আইন সহায়তা সেলের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে সংবিধান ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেন তিনি।
সাংবিধানিক ও ফৌজদারি আইনে দক্ষতা, পেশাজীবী নেতৃত্ব এবং জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে একজন যোগ্য আইনজ্ঞ ও দক্ষ প্রশাসক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।