প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:০৬ পিএম
ফাইল ফটো
ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের প্রস্তাবিত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান পরিবেশকদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মাহমুদ হাসানকে নিয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ গত ৯ মার্চ এ আদেশ দেন। দেশের দ্রুত বিক্রীত ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) খাতের দুই পরিবেশক প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড ও মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের দায়ের করা দেওয়ানি রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ জারি করা হয়।
আদালত ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের ২৯ জানুয়ারির আদেশ কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে বিবাদীদের ওপর রুল জারি করেছেন।
রুল জারির পাশাপাশি হাইকোর্ট ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও ভেক্টর এন্টারপ্রাইজের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন বিতরণ ব্যবস্থার কার্যক্রম এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। ফলে ভেক্টর এন্টারপ্রাইজের পরিবেশক হিসেবে নিয়োগ কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।
এছাড়া রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় অগ্রণী ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড ও মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে তাদের বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী ইউনিলিভারের সঙ্গে পরিবেশক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাহারুল ইসলাম মোল্লা এবং অর্থ পরিচালক জিনিয়া হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিস্ট্রিবিউটরশিপ সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে এ দুই পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শুরু হওয়া সালিশি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে।
এছাড়া পৃথক একটি মামলায় মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্সের করা জালিয়াতির অভিযোগে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ঢাকার আদালত ইউনিলিভার বাংলাদেশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।
অগ্রণী ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেড ও মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স হাইকোর্টের এ আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, “এর ফলে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং বিদ্যমান চুক্তিগুলো সুরক্ষিত থাকবে”।
তারা আরও জানায়, আইনসম্মত বাণিজ্যিক চুক্তি রক্ষা এবং দেশের এফএমসিজি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে যাবে।