প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৪ পিএম
আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪১ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তোফাজ্জল হোসেনকে নির্যাতনের আগে ভাত খাওয়ানো হয়। ফাইল ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় ২৮ জনের নামে দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। তাদের মধ্যে পলাতক ২২ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানার আদালত মঙ্গলবার পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেয়।
এদিন মামলার বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এ অভিযোগপত্রে নারাজি দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে তিনি নারাজি জমা না দেওয়ায় আদালত মামলার ২৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
আসামিরা হলেন— জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
তাদের মধ্যে জামিনে আছেন, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল, শেখ ওয়াজিবুল আলম। কারাগারে রয়েছে জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া । অপর ২২ আসামি পলাতক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথি কক্ষে ৩২ বছর বয়সি তোফাজ্জল হোসেন নির্যাতনের শিকার হন ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তোফাজ্জলকে মারধরের আগে তাকে ভাত খাওয়ানো হয়, তখন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ভাত খেতে তার কেমন লাগছে। রাত ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই ঘটনায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শাহবাগ থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান। অভিযোগপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়।
এরপর মামলার ‘তদন্ত সুষ্ঠু হয়নি’ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দাখিল করা হয়।
গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার তৎকালীন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন করে আরও সাত জনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টায় এক যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের অতিথি কক্ষে নিয়ে যান। মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান।
তোফাজ্জল মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধড়ক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। বরিশাল বিএম কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স করলেও মানসিক সমস্যার কারণে কোনো কাজকর্ম করছিলেন না।
ঘটনার কয়েকদিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হল প্রাধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার সঙ্গে এ মামলা একইসঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেয়।