প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৩ পিএম
জাহিদ মালেক। ফাইল ফটো
দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দুই মেয়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ।
এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থার সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের দুই মেয়ে সাদিয়া মালেক ও সিনথিয়া মালেকের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
আবেদনে বলা হয়, “সাদিয়া মালেক ও সিনথিয়া মালেকের দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। অনুসন্ধানকালে নথি নিরীক্ষা ও গোপন তথ্যের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যাদি পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয়, জাহিদ মালেকের সহযোগিতায় অভিযোগসংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগ করার চেষ্টা করছেন।”
আবেদনে আরও বলা হয়, “সাদিয়া মালেক ও সিনথিয়া মালেকের বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ বাধাগ্রস্থ হতে পারে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছে দুদক।”
মানিকগঞ্জ সদর আসন থেকে জাহিদ মালেক ২০০১ সালে প্রথমবারের মত নির্বাচন করে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের পরের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেয়ে।
২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মধ্যে নির্বাচনে জেতার পর তিনি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হন। পরের নির্বাচনে জেতার পর তিনি হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি এই পদে থাকার সময়ই করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মুখে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে টানা চতুর্থ জয় পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় আর জায়গা হয়নি জাহিদ মালেকের।
রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসাও করেছেন জাহিদ মালেক। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বিডি থাইফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড ছাড়াও রাহাত রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড কন্সট্রাকশন লিমিটেড ও বিডি সানলাইফ ব্রোকারেজ হাউজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।