প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৫২ পিএম
মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও তানভীর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর (মখা আলমগীর) ও তার স্ত্রী সিতারা আলমগীরের নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। একই আদালত মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত মোট ৭৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্র জানায়, এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ স্ত্রীসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলগীরের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা তাদের ব্যাংক হিসাবগুলোতে রক্ষিত অর্থ উত্তোলন করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া ব্যাংক হিসাবগুলো ব্যবহার করে তাদের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ পাচার করার সম্ভাবনা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ৩৩টি ব্যাংক হিসাব মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ১৪ ধারা ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭-এর বিধি ১৮-এর বিধান অনুযায়ী অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে গত ১২ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলা সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক), যমুনা, আইএফআইসি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে নিজেদের ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের নামের ৭৯টি হিসাবে ২১৬ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও ৬,১৮৮.৫৯ মার্কিন ডলার জমা করা হয়। উত্তোলন করা হয় ২০৯ কোটি ১৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ও ৬,০০০.০২ মার্কিন ডলার। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এদিকে নগদ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. শেখ রাসেল। আবেদনে বলা হয়েছে, নগদ লিমিটেড কর্তৃক নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ই-মানি ইস্যু এবং ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব থেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও কর্মকর্তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আত্মসাৎপূর্বক বিদেশে অর্থ পাচার করে থাকতে পারে মর্মে অনুমিত হয়েছে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারের মূল্য অপেক্ষা অনেক কম মূল্যে শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হয়ে থাকতে পারে মর্মে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।