প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ১৮:৫৫ পিএম
ছবি- সংগৃহীত।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে করা পৃথক তিন মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের সপ্তম দিনে ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলয় সাক্ষ্য নেয়া হয়।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার স্পেশাল জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এসব সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দি দেন। পরে আগামী ৩ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেন আদালত।
এদিন রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট শাহিনুর ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ জামিনের বিরোধীতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে খুরশীদ আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে, এতোদিন আসামিরা পলাতক থাকায় সাক্ষীকে জেরা হয়নি। তবে এক আসামি আদালতে থাকায় তার পক্ষে শাহিনুর ইসলাম সাক্ষীদের জেরা করেন।
সাক্ষীরা হলেন- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব জহিরুল ইসলাম খান, অগ্রণী ব্যাংকের রাজউক ভবন শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক লায়লা নূর বেগম ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ মনির হোসেন, দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর সহকারী পরিচালক ধীরাজ চন্দ্র বর্মণ ও আফনান জান্নাত কেয়া এবং দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন।
আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. সোহানুর রহমান জানান, এক মামলায় চারজন, আরেক মামলায় তিনজন এবং অপর এক মামলায় একজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিন মামলায় এই ছয়জন ঘুরেফিরে ৮ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। এসব মামলার একটিতে শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, আরেকটিতে সজীব ওয়াজেদ জয় ও শেখ হাসিনাসহ ১৭ জন এবং অপর মামলায় সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন আসামি।
এর আগে গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অপরদিকে, বাকি ৩ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এসব মামলায় একটিতে শেখ রেহানা, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ আসামি ১৭ জন। আরেকটিতে আজমিনা, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন এবং অপর মামলায় রাদওয়ান, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।