প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:০৪ পিএম
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৩৬ পিএম
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ২০১৭ সালে ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরনের পর ধর্ষনের ঘটনায় আসামি আনিছ আহম্মেদ নীলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন।
এর মধ্যে ধর্ষণের দায়ে তার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অনাদাযয়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অপহরণের দায়ে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।
সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) জানান, আসামি পলাতক থাকায় তার স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ বা পুলিশ গ্রেফতারের পর তার সাজা কার্যকর করা হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভিকারুন্নেছা স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেনীর ওই ছাত্রীর সাথে আসামি আনিছ আহম্মেদ নীলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয়। ফেসবুকের পরিচয়ের সূত্র ধরে আসামী ভিকটিমকে বিভিন্ন সময় উত্যক্ষ করতেন। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার সময় ভিকটিম বাসা থেকে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরবর্তীতে কোচিং শেষে বাসায় ফিরে না আসায় তার বাবা ও মামলার বাদী তাকে খুঁজতে আজিমপুর গিয়ে কোচিং শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম কোচিংয়ে যায়নি বলে জানান। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে কয়েকজন তাকে জানান যে, ৩০ অক্টোবর ২টা ৪০ মিনিটের সময় তার কন্যা বাসা হতে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বড়গ্রাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড়ে পৌঁছলে আসামী আনিছ আহম্মেদ নীলসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন তার মেয়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে দেখেছেন।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ মামুন হোসেন আসামির বিরুদ্ধে ভিকটিমকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এরপর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।