সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২২ ১৩:২৪ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২ ১৬:২১ পিএম
হাইকোর্ট : ছবি সংগৃহীত
অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে সুইস ব্যাংকে যেসব অর্থ জমা বা পাচার হয়েছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সুইজারল্যান্ড সরকারের কাছে বাংলাদেশ সরকার অর্থ পাচারের কোনো তথ্য কেন চায়নি, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে জানতে চান।
একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত রিপোর্ট তুলে ধরে হাইকোর্ট জানতে চান কী পরিমাণ টাকা সুইচ ব্যাংকে পাচার হয়েছে এবং এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ বা দুদক কোনো তথ্য দিতে পারেনি আদালতকে।
এ কারণে আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা উভয় পক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।
এদিন দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার বিষয়ে বাংলাদেশ নির্দিষ্ট কোনও তথ্য চায়নি বলে জানান ঢাকায় নিযুক্ত সুইস রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড।
তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক বা এসএনবির ২০২২ সালের জুন মাসে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরে বাংলাদেশিরা প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশিদের আমানত দাঁড়িয়েছে ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি ফ্রাঁ বাংলাদেশি ৯৫.৭০ টাকা হিসাবে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশিরা কত টাকা জমা রেখেছে, ওই তথ্য প্রতি বছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক দিয়ে থাকে। ওই অর্থ অবৈধ পথে আয় করা হয়েছে কিনা, এটি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। তবে আমরা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা সম্ভব এবং সেটি তৈরি করতে হবে। এটি নিয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।’
প্রবা/আরএম/এমজে