ঐতিহাসিক রায়
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৭:৫১ পিএম
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ১৮:৩৪ পিএম
হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ। ফাইল ফটো
নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ঘোষণা করে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি কাজী ওয়ালিউল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এই রায় দেয়।
রায়ে আদালত বলেছে, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপদ এবং বিশুদ্ধ পানযোগ্য পানি পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। এই পানির অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আদালত বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে আদালত, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল, রেল স্টেশন, হাট-বাজার, এয়ারপোর্টসহ দেশের প্রতিটি পাবলিক প্লেসে নিরাপদ পানযোগ্য পানি প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করতে হবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য নিরাপদ এবং পানযোগ্য পানি সাশ্রয়ী মূল্যে নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
রায় ঘোষণায় আরও বলা হয়, অত্র আদেশটি একটি চলমান আদেশ হিসেবে থাকবে। হাইকোর্ট কর্তৃক ঘোষিত তুরাগ নদীর রায়, সোনারগাঁয়ের রায় ও হাতিরঝিলের রায়ের নির্দেশনাগুলোও এই রায়ের নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত হবে। বাংলাদেশের যত পানির উৎস রয়েছে তা যাতে ক্ষয়িষ্ণু না হয় অর্থাৎ পানি শুকিয়ে না যায়, পানি অনিরাপদ না হয়, পানি দূষিত না হয় সেগুলোকে সংরক্ষিত করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানযোগ্য পানি সরবরাহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব অথবা এই নিরাপদ পানি পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার কিনা তা জানতে চেয়ে ২০২০ সালে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় আদালতকে আইনি সহযোগিতা করার জন্য মামলার শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি বা আদালতের বন্ধু হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও মানবাধিকার সংগঠন বেলা’র পক্ষ থেকে মিনহাজুল ইসলাম।
রায়টি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে জানিয়ে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক রায়।’