প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ পিএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২২ ১৩:২৮ পিএম
ইমরান খান। ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান বলেছেন, ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আর দায়ী করছেন না।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার (১৩ নভেম্বর) লাহোরে তার বাসভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
তবে তার এ মন্তব্য সবার কাছে বিস্ময়কর ঠেকেছে। কারণ, অনাস্থা ভোটের মধ্য দিয়ে ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে তিনি ক্রমাগত এই স্লোগানে প্রচার চালিয়েছেন যে একটি বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্রে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। আর এ বিদেশি শক্তি হলো যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
পৃথকভাবে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, পিএমএল-এন শীর্ষ নেতা নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে দেশে স্বচ্ছ নির্বাচন করতে অনুমতি না দিয়ে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
ভিডিও কনফারেন্সে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে আরও বলেন, পিটিআইয়ের হাতে পরাজয়ের ভয়ে নওয়াজ শরিফ নির্বাচনে যাচ্ছেন না।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া একজন ব্যক্তি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং একজন নতুন সেনাপ্রধানও নিয়োগ দিয়েছেন, যা পুরো জাতির জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেন পিটিআইপ্রধান।
ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান দাবি করেন, ‘শাসন পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা নির্বাচন থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারণ, তারা জানেন যে তারা আমার বিরুদ্ধে (নির্বাচনে) হেরে যাবেন এবং তাদের দুর্নীতি ও লুট করা টাকাও বাঁচাতে পারবেন না।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মতে, ‘শাসন পরিবর্তনের এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষা ব্যর্থ হলেও শাসকরা এখনও তাদের ভুল স্বীকার করছেন না।’ তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসকরা তাদের লুট করা টাকা সবসময় সুরক্ষিত রাখতে কোনো শীর্ষ কর্মকর্তাকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করেননি।
ইমরান খান দাবি করেন, তার ক্ষমতাচ্যুতির কারণে দেশের উন্নয়নমুখী অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। তবে এতে শরিফদের (নওয়াজ শরিফ ও শাহবাজ শরিফ) কোনো অনুশোচনা নেই। কারণ তারা নিজেদের করা আইনের মধ্য দিয়ে নিজেদের দোষমুক্ত করা নিয়ে ব্যস্ত।
একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগের জন্য পিডিএম সরকারকেও তিরস্কার করেন। পাশাপাশি জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকার গত সাত মাসে এই দিকটিতে কী কী করেছেন, তা জাতির কাছে ব্যাখ্যা করা উচিত।
অন্যদিকে ইমরান খান তার ক্ষমতাচ্যুতির জন্য একসময় যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেও তা থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেন, এবার তিনি ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চান।