নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৪ ১৭:৪৬ পিএম
আপডেট : ২৬ মে ২০২৪ ১৯:২১ পিএম
শনিবার তেল আবিবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে ইসরায়েলি পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ, নতুন নির্বাচন এবং গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি ইসরায়েলিদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার ইসরায়েলি।
শনিবার (২৫ মে) দেশটির রাজধানী তেল আবিবে এই বিক্ষোভ করা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইসরায়েলি পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে। এ সময় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুধু তেল আবিব নয়, বন্দর নগরী হাইফাসহ দেশটির অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়েছে এ বিক্ষোভ।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেটজ এর বরাতে দ্য গার্ডিয়ান এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জিম্মি কারমেল গ্যাটের চাচা স্নির দাহান বলেন, ‘সামরিক শক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি জিম্মি বিনিময় চুক্তি ও আলোচনার চেষ্টা করা হলেও অনেক ইসরায়েলি এখনও গাজায় বন্দি। জিম্মিদের ফিরে আসার জন্য পর্যাপ্ত কাজ করছে না সরকার।’
বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার তেল আবিবে বিক্ষোভের সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। ছবি : সংগৃহীত
গত সপ্তাহে গাজা থেকে তিন জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (২৪ মে) ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার দিনই তাদের হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের মরদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হামাসের হাতে জিম্মি ২৫০ ইসরায়েলির প্রায় অর্ধেক মুক্তি পেয়েছে। যার বেশিরভাগই নভেম্বরে এক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির সময় বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পায়। ইসরায়েল বলছে, গাজায় এখনও প্রায় ১০০ জনকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে এবং ৩০ জনের মরদেহ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশ মানছে না ইসরায়েল
যুদ্ধ বন্ধ এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মানবিক সাহায্যের অনুমতি দেওয়ার জন্য দেশে এবং বিদেশে উভয় ক্ষেত্রেই ক্রমবর্ধমান চাপে রয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।
শুক্রবার ইসরায়েলকে রাফায় সামরিক আক্রমণ বন্ধ এবং মানবিক সহায়তার জন্য নিকটবর্তী সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। পাশাপাশি ইসরায়েলকে গাজায় যুদ্ধাপরাধের তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে রাফায় হামলা অবহ্যাত রেখেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শনিবারেও ইসরায়েলি হামলায় নারী ও শিশুসহ ৪৫ জন নিহত হয়েছে।
ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা করার জন্য অভিযুক্ত করে দক্ষিণ আফ্রিকা, যা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল।
৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলের প্রায় ১২০০ জন নিহত এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করার পর নেতানিয়াহু হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেছে। ইসরায়েলি আক্রমণে প্রায় ৩৬০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজার হাজার মানুষ চাপা পড়ে আছে এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : গার্ডিয়ান