প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৮:৩১ পিএম
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:১৩ পিএম
বারাণসী-দিব্রুগড় রুটে বাংলাদেশ হয়ে চলাচল করবে ভারতের প্রমোদতরী ‘গঙ্গা বিলাস’। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন প্রমোদতরী চলাচলের প্রস্তাব করেছে। দেশটির উত্তরপ্রদেশের বারাণসী শহর থেকে চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এটি আসামের দিব্রুগড় শহরে পৌঁছাবে, যা বিশ্বে কোনো প্রমোদতরীর দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়া।
৫০ দিনের সমুদ্রযাত্রায় ‘গঙ্গা বিলাস’ নামের প্রমোদতরীটি বাংলাদেশের ভেতর দিয়েই তার গন্তব্য দিব্রুগড়ে পৌঁছাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি ‘গঙ্গা বিলাস’ যাত্রা শুরু করবে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম নেট নর্থওয়েস্ট টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের পোর্টস, শিপিং অ্যান্ড ওয়াটারওয়েজের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল শুক্রবার (১১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বের কোনো প্রমোদতরীর পক্ষে এটা হবে দীর্ঘতম সমুদ্রযাত্রা। দীর্ঘতম প্রমোদতরীর রুট হিসেবে এটি ভারত ও বাংলাদেশের মানচিত্রকে বিশ্বদরবারে নতুন করে তুলে ধরবে।’
বারাণসী-দিব্রুগড় রুটের এ প্রমোদতরী পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। এ জন্য ইনল্যান্ড ওয়াটারওয়েস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (আইডব্লিউএআই) ভারতের প্রমোদতরী কোম্পানি অন্তরা লাক্সারি রিভার ক্রুস ও বাংলাদেশের পর্যটন সেবা প্রদানকারী কোম্পানি জেএম বক্সি রিভার ক্রুজের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।
মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, এ প্রমোদতরীতে সব ধরনের যাত্রীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এটিকে যেহেতু নানা রাজ্যের ওপর দিয়ে যেতে হবে, তাই যাতে কোনো আইনি জটিলতা না হয়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। সংশোধন করা হয়েছে ইন্ডিয়ান ভেসেল অ্যাক্ট। ভাড়া নির্ধারণ করবে প্রমোদতরীর পরিচালনা কর্তৃপক্ষ, তাতে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না।
প্রমোদতরীটি বারাণসী থেকে যাত্রা করার ৮ম দিনে বিহারের পাটনা বন্দরে পৌঁছাবে। সেখান থেকে ২০তম দিনে পৌঁছাবে কলকাতায়। সেখানে একদিন যাত্রা বিরতি করবে। সেখান থেকে ‘গঙ্গা বিলাস’ বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। পুনরায় ভারতে ঢুকে শেষ গন্তব্য আসামের দিব্রুগড়ে পৌঁছার আগে প্রমোদতরীটি বাংলাদেশে ১৫দিন পার করবে।
বাংলাদেশে ১৫ দিনে ‘গঙ্গা বিলাস’ প্রায় এক হাজার ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। ভারত-বাংলাদেশ প্রোটোকল রুটের অধীনে প্রমোদতরীটি বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চলাচল করবে। প্রোটোকলটির অধীনে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করছে।