আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২২ ১৫:১১ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২ ১৬:৩৬ পিএম
আয়মান আল জাওয়াহিরি
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়দার প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরি নিহত হয়েছেন। ২০১১ সালে পাকিস্তানে এক অভিযানে এ গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর থেকে এর নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। গত রোববার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএর হামলায় নিহত হন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, জাওয়াহিরি কয়েক বছর ধরে লুকিয়ে ছিলেন। আত্মগোপনে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা পরিচালনা করে যাচ্ছিলেন তিনি। সন্ত্রাসবাদ দমন ও গোয়েন্দা বিভাগের সতর্ক অভিযানের ফলেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
জাওয়াহিরিকে হত্যার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার আগে ধারণা করা হতো, তিনি পাকিস্তানের পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা ওই অভিযানের বিস্তারিত সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর দেশটিতে আল-কায়দার উপস্থিতি বেড়েছে। কয়েক বছর ধরে জাওয়াহিরির গতিবিধি লক্ষ করছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। বিশেষ করে গত বছর থেকে তার কার্যক্রম পর্যালোচনা চালাচ্ছিল তারা।
চলতি বছর জাওয়াহিরির স্ত্রী, কন্যা ও তার সন্তানদের শনাক্ত করেন মার্কিন গোয়েন্দারা। কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তারা কাবুলে একটি নিরাপদ বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে জাওয়াহিরিকে চিহ্নিত করেন তারা।
কয়েক মাসের মধ্যে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও নিশ্চিত হয়ে ওঠেন যে তারা কাবুলের ওই নিরাপদ বাড়িতে জাওয়াহিরিকে সঠিকভাবেই শনাক্ত করেছেন। এপ্রিলের প্রথমদিকে তারা মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাতে শুরু করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিষয়টি জানান।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘একাধিক স্বাধীন উৎসের তথ্যের মাধ্যমে আমরা (তার) জীবনের একটি ছক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলাম, অভিযানে সেটিই কাজে লেগেছে।’
একবার জাওয়াহিরি কাবুলের নিরাপদ আস্তানায় আসার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাকে ওই বাড়ির বারান্দায় দেখতে পান আর সেখানেই তার ওপর একাধিকবার আঘাত হানা হয়, জানান ওই কর্মকর্তা।
ওই ভবনের কাঠামোর জন্য কোনো হুমকি তৈরি না করে এবং বেসামরিক ও জাওয়াহিরির পরিবারের সদস্যদের ঝুঁকি সর্বনিম্ন রেখে কীভাবে জাওয়াহিরিকে হত্যা করতে অভিযান চালানো যায় তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ওই নিরাপদ আস্তানার গঠন ও ধরন অনুসন্ধান করার পাশাপাশি এর বাসিন্দাদের যাচাই করে দেখেন বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
পরের সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্ট বাইডেন গোয়েন্দা তথ্যগুলো যাচাই ও পদক্ষেপ নেওয়ার সেরা উপায় নিয়ে আলাপ করতে প্রধান উপদেষ্টাদের ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১ জুলাই হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে সিআইএর পরিচালক উইলিয়াম বার্নসসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রস্তাবিত একটি অভিযানের বিষয়ে বাইডেনকে অবহিত করেন।
ওই বৈঠকে বাইডেন বহু প্রশ্ন করেন এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৈরি করা ওই নিরাপদ আস্তানার একটি মডেল নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি আলো, আবহাওয়া, নির্মাণ উপকরণসহ যে যে বিষয়গুলো অভিযানের সাফল্যের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন করেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
কাবুলে হামলা চালালে সম্ভাব্য যে প্রভাব সৃষ্টি হবে বাইডেন তাও বিশ্লেষণ করে দেখার অনুরোধ করেছিলেন।
আন্তঃসংস্থা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের ছোট একটি চক্র গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখে, তারপর আল-কায়দার নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়ার ভিত্তিতে জাওয়াহিরি একটি আইনসম্মত লক্ষ্যস্থল বলে নিশ্চিত করেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, ২৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট বাইডেন চূড়ান্ত ব্রিফিংয়ের জন্য মন্ত্রিসভার প্রধান সদস্যদের ও উপদেষ্টাদের ডাকেন এবং জাওয়াহিরিকে হত্যা করা হলে তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা নিয়ে আলোচনা করেন।
ওই রুমে থাকা অন্যদের মতামত নেওয়ার পর বাইডেন বেসামরিকদের নিহত হওয়ার ঝুঁকি সর্বনিম্নে রাখার শর্তে ‘একটি সুনির্দিষ্ট উপযোগী বিমান হামলা’র অনুমোদন দেন।
কাবুলের স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ জুলাই) ভোর ৬টা ১৮ মিনিটে একটি ড্রোন থেকে দুটি ‘হেলফায়ার’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে জাওয়াহিরিকে হত্যা করা হয়। খবর রয়টার্সের।