প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৭:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২ ১৮:২৭ পিএম
নিহত মার্কিন এনজিও কর্মীকে বাগদাদের শেখ জাহেদ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। হাসপাতালটির গেটে জড়ো হয়েছেন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ৭ নভেম্বর রাতে। ছবি : সংগৃহীত
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সোমবার (৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের এক এনজিওকর্মী আততায়ীদের গুলিতে নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ইরাকের সরকারি কর্মকর্তারা খুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো গ্রুপ খুনের দায় স্বীকার করেনি।
আলজাজিরা জানিয়েছে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বাণিজ্যিক ডিস্ট্রিক্ট কারাদায় সোমবার এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী ব্যক্তি স্ত্রী-সন্তানসহ প্রাইভেটকারে ছিলেন। এ সময় আরেকটি প্রাইভেটকার থেকে আততায়ীরা গুলি চালান। এতে তিনি নিহত হন। তবে তার স্ত্রী-সন্তানেরা নিরাপদ রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে এক ইরাকি পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যমতে, আততায়ীরা ওই মার্কিন এনজিও কর্মকর্তাকে গুম করতে চেয়েছিলেন। তা না পেরে তারা গুলি করে তাকে খুন করেন।
অন্যদিকে মার্কিন নাগরিক হত্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানিয়েছে, নিজেদের নাগরিক খুনের বিষয়টি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইসও স্বীকার করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিজেদের আরও তথ্য জানা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি। বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আগ পর্যন্ত খুনের বিষয়ে তারা শতভাগ নিশ্চিত হতে পেরেছেন।
ইরাকে ২০১৭ সালে ইসলামিক স্টেটকে (আইএসআইএল বা আইএসআইএস) পরাজিত করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সেনা বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো স্থাপনায় তেমন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
তবে ২০২০ সালের মার্চে বাগদাদের এক বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন (মানুষবিহীন বিমান) হামলায় ইরাকি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলে যায়। এরপর রকেট হামলায় বাগদাদে দুই মার্কিন ও এক ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। ২০২১ সালের মার্চে অনুরূপ এক হামলায় আতঙ্কিত হয়ে এক মার্কিন বেসামরিক ঠিকাদার হার্ট ফেল করে মারা যান।