প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৪ ১৫:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪ ১৬:১৩ পিএম
বৃহস্পতিবার থেকে হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে সমন্বিতভাবে হামলা শুরু করে দেশটির কয়েকটি গ্যাং। ছবি : সংগৃহীত
হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের দুটি জেল থেকে অন্তত ৫ হাজার ৪০০ কয়েদি পালিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রবিবারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছে।
এ অবস্থায় ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশটিতে সোমবার (৪ মার্চ) ভোর থেকে ৭২ ঘণ্টার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাতে চলবে কারফিউ।
রবিবার মধ্যরাতে এক বিবৃতিতে জরুরি অবস্থা ও কারফিউ ঘোষণা করেছেন সহিংসতাকবলিত দেশটির অর্থমন্ত্রী প্যাট্রিক বোয়েভার্ট। প্রধানমন্ত্রী এরিয়েল হেনরি বিদেশ সফরে থাকায় বোয়েভার্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
বোয়েভার্ট বিবৃতিতে বলেছেন, কারফিউ কার্যকর করার জন্য পুলিশকে সব ধরনের বৈধ উপায় অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে দেশটির কয়েকটি গ্যাং সমন্বিতভাবে থানা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ফুটবল মাঠে হামলা শুরু করে।
শনিবার রাতে তারা রাজধানীতে দেশটির প্রধান কারাগারে হামলা চালায়। রবিবার কারাগারটির আনুমানিক ৪ হাজার কয়েদি পালিয়ে যায়। কারাগারটিতে এখন কেবল ১০০ কয়েদি অবশিষ্ট রয়েছে।
প্রায় একই সময়ে পাশাপাশি স্থানের আরেকটি কারাগারেও হামলা চালিয়েছে গ্যাং সদস্যরা। সেখান থেকে পালিয়ে যায় প্রায় আরও ১ হাজার ৪০০ কয়েদি।
গ্যাং নেতা জিমি চেরিজিয়ার এসব হামলার দায় স্বীকার করেছেন। চেরিজিয়ার দেশটির বিশেষায়িত পুলিশ বাহিনী বারবিকিউর সাবেক কর্মকর্তা।
নিজেদের হামলার লক্ষ্য সম্পর্কে চেরিজিয়ার বলেন, পুলিশপ্রধান ও কয়েকজন মন্ত্রীকে আটক করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
অন্যদিকে কেনিয়ায় সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী হেনরিকে দেশে ফিরতে না দেওয়াও নিজেদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন এ গ্যাং নেতা।
কেনিয়াতে জাতিসংঘের একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছেন হেনরি। সেখানে তিনি নিজ দেশে সংস্থাটির শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের জন্য অনুরোধ করেছেন।
হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইস ২০২১ সালের জুলাইয়ে আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। এর পর থেকে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে সংঘাত আরও বেড়েছে।
সূত্র : গার্ডিয়ান