আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২২ ১৩:৫৩ পিএম
ইরানে তিন নারীর ফাঁসি
একদিনে তিন নারীর ফাঁসি কার্যকর করেছে ইরান। পৃথক মামলায় তিজনের ফাঁসির রায় দেয় দেশটির আদালত। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরওয়ে ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউমেন রাইটস (আইএইচআর)। খবর এনডিটিভির।
আইএইচআর জানায়, স্বামীকে হত্যার অভিযোগে পৃথক মামলায় তিন নারীর ফাঁসি কার্যকর করা হয় গত ২৭ জুলাই। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরেই দেশটিতে অন্তত ১০ জন নারীর ফাঁসি কার্যকর করা হলো।
সংস্থাটি বলে, আফগান নাগরিক, সেনোবার জালালি কে তেহরানের বাইরে একটি কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
অন্যদিকে, সোহেলা আবেদী, যিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার স্বামীকে বিয়ে করেন, তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল পশ্চিম ইরানের সানন্দাজ শহরের একটি কারাগারে। বিয়ের ১০ বছর পর তিনি তার স্বামীকে হত্যা করেন এবং ২০১৫ সালে দোষী সাব্যস্ত হন।
ফারনাক বেহেশতি, যিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে তার স্বামীকে হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তাকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উর্মিয়ার কারাগারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মানবাধিকার কর্মীরা বলেন, ইরানের আইনের ধারাগুলো নারীদের বিরুদ্ধে স্তুপীকুত। যাদের একতরফাভাবে বিবাহবিচ্ছেদের দাবি করার অধিকার নেই, এমনকি পারিবারিক সহিংসতা এবং নির্যাতনের ক্ষেত্রেও আইনের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। যে কারণে অল্প বয়সে বিয়ে হওয়অ নারীরা, কিংবা আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের পর নারীদের নির্যাতনের হার বেড়ে যায়। এর বিপরীতে স্ত্রীর হাতে স্বামী হত্যার ঘটনা ঘটে থাকে বলে যুক্তি দেন তারা।
গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত আইএইচআর-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের অক্টোবরের মধ্যে কমপক্ষে ১৬৪ জন নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ইরানে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক আবদুর রহমান বোরোমান্ড সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান এবং লন্ডন ভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বুধবার জানিয়েছে, ইরান জীবনের অধিকারের উপর একটি ‘ঘৃণ্য আক্রমণ’ হিসাবে ‘ভয়াবহ গতিতে’ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে।