প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:১৯ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:৫৩ পিএম
বোমা হামলার পর মিন্দানাও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেন সামরিক কর্মকর্তারা। ছবি : সংগৃহীত
ফিলিপাইনের মিন্দানাও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে (এমএসইউ) ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সভায় বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট বা আইএসআইএল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে আইএসআইএল জানিয়েছে,‘খিলাফতের সৈনিকরা মারাউই শহরে খ্রিস্টানদের ধর্মীয় সভায় একটি ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।’
এমএসইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিবার (৩ ডিসেম্বর) বোমা হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। এই ঘটনাকে বিদেশি সন্ত্রাসীদের নির্বোধ ও জঘন্য হামলা উল্লেখ করে শোক জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র।
সোমবার (৪ ডিসেম্বর) দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, হামলার তদন্তে দুই ব্যক্তির সম্পৃক্তা রয়েছে। জিএমএ নিউজকে আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান অ্যালান নোবেলেজা জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
এক সংবাদ সম্মেলনে ওই ঘটনার পেছনে বিদেশি শক্তির উপস্থিত থাকার বিষয়ে শক্ত আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব গিলবার্তো তেওডোরো।
ফিলিপাইনের দক্ষিণের মারাউই শহরটি ২০১৭ সালে পাঁচ মাস অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ‘ইসলামি জঙ্গিরা’। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানির পর এই দশার অবসান হয়।
বোমা হামলাকে ‘ঘৃণ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উল্লেখ করে শোক জানিয়ে ফিলিপিনীয়দের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান রোমিও ব্রাউনার রবিবার জানান, লানাও দেল সুর প্রদেশের রাজধানী মারাউইতে স্থানীয় ইসলামপন্থি দলগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলছে। রবিবার এক অভিযানে দাওলাহ ইসলামিয়া-মাউত গ্রুপের এক নেতা নিহত হয়েছেন। এর প্রতিশোধ নিতে ওই হামলা চালানো হতে পারে।
ইসলামি স্টেটের সঙ্গে যুক্ত এই মাউত গ্রুপ ২০১৭ সালে মারাউই অবরুদ্ধ করেছিল। তারা এটিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইসলামিক স্টেট করতে চেয়ছিল। পরবর্তী পাঁচ মাসে ইসলামি যোদ্ধা ও ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে বেসামরিকসহ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
ধর্মীয় সমাবেশের সময় এ ধরনের হামলায় গভীর মর্মাহত ও আতঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এই নির্বোধ ও জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানাই।’
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাস স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।