প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:৫৩ পিএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:৩৪ পিএম
ভারতের বিদেশবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’ যুক্তরাষ্ট্রে দুটি কার্যালয় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সংস্থাটিকে এমনটি আর কখনও করতে হয়নি। ভারতের গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, গত গ্রীষ্মের শুরুতে র-এর সান ফ্রান্সিসকো অফিসের প্রধানকে ফিরিয়ে নিতে ভারতের প্রতি অনুরোধ করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে সংস্থাটির লন্ডন কার্যালয়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকেও ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
তারও আগে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের পর এখনও র-এর ওয়াশিংটন অফিসের নতুন প্রধান নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ র-এর সদ্যসাবেক প্রধান সামন্ত গোয়েল দায়িত্ব ছাড়ার আগেই গত ৩০ জুন ওয়াশিংটন অফিসে নতুন প্রধান নিযুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সে অনুমতি দেয়নি।
এমন এক সময়ে এসব কিছু ঘটছে যখন যুক্তরাষ্ট্র র-এর বিরুদ্ধে নিজ ভূখণ্ডে গুপ্তহত্যা চালানোর চেষ্টার অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত শিখ আইনজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যা করতে চেষ্টা করেছিল র। এজন্য র-এর কর্মকর্তারা নিখিল গুপ্ত নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। পান্নুনকে হত্যার বিনিময়ে নিখিলকে দেড় লাখ ডলার দেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) র-এর নীলনকশা ভেদ করে।
বুধবার (২৯ নভেম্বর) ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান ও সিআইএপ্রধান উইলিয়াম বার্নস সম্প্রতি ভারতের একই পদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিজ ভূখণ্ডে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করায় নয়াদিল্লিকে কঠিন ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের কূটনৈতিক টানাপড়েনের আগে অটোয়ার সঙ্গে নয়াদিল্লির একই ধরনের অবস্থা দেখা গেছে। গত জুনে কানাডায় হরদীপ সিং নিজ্জার নামের এক ভারতীয় শিখ নেতা খুন হন। কানাডার অভিযোগ, নিজ্জার হত্যার সঙ্গে ভারত সরকারের হাত রয়েছে। এ ঘটনায় উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার করে। ভারত কানাডায় ভিসা কার্যক্রম বন্ধ করে। অবশ্য সম্প্রতি তা চালু করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র র-এর বিরুদ্ধে কী কারণে ব্যবস্থা নিয়েছে তা বোঝা গেলেও যুক্তরাজ্য সুনির্দিষ্ট কী কারণে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাটির লন্ডন অফিস থেকে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করেছে তা স্পষ্ট নয়। তবে এটাকে সাংকেতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এর অর্থ হলো, তোমাদের কর্মকর্তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে। কারণ নিজ ভূখণ্ডে র-এর কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল যুক্তরাজ্য।
সূত্র : দ্য প্রিন্ট