প্রতিদিনের বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২২ ১৭:২৫ পিএম
আপডেট : ১৯ জুন ২০২২ ১৭:৩৮ পিএম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে পশ্চিমারা যে নিষেধাজ্ঞাগুলো মস্কোর ওপর আরোপ করেছে, সেগুলোকে পাগলামি ও হঠকারী বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি ফোরামে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক এই অবরোধ প্রথম থেকেই সফল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না বরং এই নিষেধাজ্ঞাগুলো যারা আরোপ করেছে তাদের জন্যই তা বেশি ক্ষতিকর হবে।’ খবর বিবিসি'র।
খবরে বলা হয়েছে, রাশিয়াকে শাস্তি দেওয়া এবং নিজেদের অর্থনীতি রক্ষার মধ্যে এখন পশ্চিমা দেশগুলোকে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করতে হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট পুতিন দাবি করেন, মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ৪০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ২৭ সদস্যের এই ব্লকে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলেছে এবং ইউরোপের জনগণের মূল স্বার্থের বিষয়গুলোকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যদিও পুতিনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নর এলভিরা নাবিউলিনা গত বৃহস্পতিবার বলেন, দেশের জিডিপির ১৫ শতাংশ আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এটা এখন স্পষ্ট যে দেশটির অর্থনৈতিক আর আগের মতো হবে না।
এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার দেশের বৃহত্তম ঋণদাতা এসবার ব্যাংকের প্রধান রাশিয়ার অর্থনীতি ২০২১-এর পর্যায়ে ফিরে আসতে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। কিন্তু পুতিন এসব বিষয় তোয়াক্কা না করে দেশটির প্রধান ব্যবসাগুলোকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে পুরো বিশ্বে খাদ্য সংকটে পড়ার আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়া তার শস্য ও সারের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে সক্ষম। শুধুমাত্র শস্য রপ্তানিই প্রায় ৫০ মিলিয়ন টন বাড়াতে হতে পারে বলে জানান তিনি।
এরইমধ্যে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের কয়েকটি গুরুত্বপুর্ণ শহর দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর সেভেরোদোনেৎস্ক দখলে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।