প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ২০:৩৯ পিএম
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩ ২১:৩০ পিএম
গ্যাবনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আলি বঙ্গো ওন্দিম্বা। ছবি : সংগৃহীত
মধ্য আফ্রিকার দেশ গ্যাবনের ক্ষমতাচ্যুত গৃহবন্দি প্রেসিডেন্ট আলি বঙ্গো ওন্দিম্বা বুধবার (৩০ আগস্ট) এক ভিডিওবার্তায় জনগণের সহায়তা চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওবার্তায় ওন্দিম্বা বলেন, বন্ধুরা তোমরা পারলে কিছু হট্টগোল শুরু কর।
হট্টগোল বলতে ওন্দিম্বা কী বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তবে এই বার্তার মাধ্যমে তিনি জান্তাবিরোধী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কিন্তু এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গ্যাবনের কোথাও জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ দেখা যায়নি। বরং সাধারণ জনগণকে সামরিক অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে।
ওন্দিম্বাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গ্যাবনের সশস্ত্র বাহিনীর একদল জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশটির জাতীয় টেলিভিশন গ্যাবন২৪-এ উপস্থিত হয়ে বলেছেন, চলতি সপ্তাহে হওয়া নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় তারা ক্ষমতা দখল করেছেন।
২৬ জুলাই পশ্চিম আফ্রিকার নাইজারে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী।
সামরিক কর্মকর্তারা বুধবার ভোরে টেলিভিশন মারফত জানিয়েছেন, নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং দেশের সীমানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারাই গ্যাবনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। গ্যাবোনিজ জনগণের নামে তারা বর্তমান শাসনের অবসান ঘটিয়ে শান্তি রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন।
সামরিক এই ঘোষণার পর রয়টার্স ও এএফপির মতো সংবাদ সংস্থাগুলো গ্যাবনের রাজধানী লিব্রেভিলে গুলির শব্দের খবর দিয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৬ আগস্ট) বিতর্কিত নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে জয়লাভ করেন প্রেসিডেন্ট আলি বঙ্গো ওন্দিম্বা। গ্যাবোনিজ ইলেকশন সেন্টার জানিয়েছিল, সে নির্বাচনে বঙ্গো ভোট পেয়েছেন ৬৪ দশমিক ২৭ শতাংশ ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলবার্ট ওন্ডো ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই বিরোধীরা আলি বঙ্গো ও তার সমর্থকদের দ্বারা সংঘটিত জালিয়াতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গ্যাবোনিজ ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিজি) প্রার্থী ছিলেন আলি বঙ্গো। এ দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তার বাবা ওমর বঙ্গো; যিনি ১৯৬৭ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কঠোরভাবে গ্যাবন শাসন করেছিলেন।
সূত্র : আলজাজিরা