প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৩ ১৪:০৭ পিএম
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৩ ১০:২৬ এএম
এখনো কোনো কোনো স্থানে আগুন রয়ে গেছে। আগুন নেভানোর কাজ করছেন দমকল বাহিনীর এক সদস্য। ১৩ আগস্ট হাওয়াইয়েল মাউই দ্বীপে। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই রাজ্যে দাবানলে রবিবার (১৩ আগস্ট) পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩। এখনো আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। অব্যাহত রয়েছে উদ্ধার তৎপরতা।
শনিবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ৮৯। আগের দিন শুক্রবার পর্যন্ত মৃত বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৬৭। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তা ছিল ৫৩।
এ দাবানল হাওয়াই দ্বীপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ১৯৬০ সালে দ্বীপটিতে সুনামির আঘাতে মারা গিয়েছিল ৬১ জন। এক বছর আগে ১৯৫৯ সালে দ্বীপটি রাজ্যের মর্যাদা পায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলে ১০৫ বছরে এত বেশি মানুষ আরও কখনো মারা যায়নি। ১৯১৮ সালে মিনেসোটা এবং উইসকনসিনে দাবানলে ৪৫৩ জনের প্রাণহারি হয়েছিল।
দাবানলের আগে যথাসময়ে সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবানল চলাকালে দমকল বাহিনী ও অন্য উদ্ধারকর্মী দলের অবহেলা ছিল বলেও অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তা ছাড়া দাবানলের পরে লুটপাটেরও খবর পাওয়া যাচ্ছে।
শুক্রবার হাওয়াইয়ের অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান লোপেজ বলেন, দাবানলের শঙ্কা আগে থেকেই করা হচ্ছিল। তাই ওই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। দাবানলের আগে-পরে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা আমরা গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করব। পরে জনগণের সঙ্গে শেয়ার করব।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে দ্বীপরাজ্যটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটননগরী লাহাইনাতে জনসাধারণকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অঞ্চল এখনও ঘিরে রাখা হয়েছে।
তবে শনিবার কোনো কোনো স্থানে নতুন করে দাবানল দেখা দেওয়া ফের সতর্কতা জারি করা হয়। সোমবার তা অনেক খানি নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। এখনো কোনো স্থানে স্থানে অল্প অল্প আগুন জ্বলছে।
দ্বীপটির মাউই উপদ্বীপে মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) শুরু হওয়া দাবানলটি ‘ডোরা’ নামে একটি হারিকেনের বাতাসের কারণে বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
দাবানলে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, অবকাঠামো, দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। উপদ্বীপটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজ্যের গভর্নর জোশ গ্রিন দাবানলটিকে হাওয়াইয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, এ দিনটি আমাদের ‘হৃদয় ভেঙে যাওয়ার দিন’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দাবানলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাউই উপদ্বীপের পর্যটন শহর লাহাইনা। শহরটির প্রায় ৮০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংস হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ভবন।
ধেয়ে আসা দাবানল থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ সাগরে নেমে গেছে। ১৪ হাজারের বেশি পর্যটককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পুনর্গঠনে ‘বড় দুর্যোগ তহবিল’ ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
হাওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত একটি দ্বীপরাজ্য। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের পাশে অবস্থিত। পর্যটনের জন্য বেশ বিখ্যাত।
সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি