প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৩ ২০:১০ পিএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৩ ২২:০২ পিএম
মিসরের কায়রোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেওয়া নৈমিত্তিক ব্যাপার। দেশটির সরকার একরকম আতঙ্কেই থাকে যে তাদের নাগরিকরা যেকোনো সময় লিফটে আটকা পড়তে পারেন। কায়রোর এ রকম নানাবিধ সমস্যা শহরটিকে দিয়েছে ‘বসবাস করা কঠিন’-এর তকমা। খাদ্যের মূল্যস্ফীতি সেখানে বর্তমানে গিয়ে ঠেকেছে ৬৬ শতাংশে এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণি ধীরে ধীরে ধাবিত হচ্ছে দারিদ্র্যের দিকে। এসব তথ্য উঠে এসেছে ইআইইউয়ের এক সূচকে।
বিশ্বের ১৭৩টি শহরকে পাঁচটি বিষয়ের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করে সংস্থাটি তৈরি করেছে ওই সূচক। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন বলছে, এবারের সূচকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার শহরগুলো র্যাঙ্কিং কম পেলেও সেগুলোর সার্বিক স্কোর গতবারের তুলনায় ভালো এসেছে।
সূচক তৈরির সময় ইআইইউ যে পাঁচটি বিষয় আমলে নিয়েছে, তা হলো, স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো। সুদানের খার্তুম ও ইরাকের বাগদাদের মতো শহরগুলো ঠাঁই পায়নি তালিকায়। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার শহরগুলোর এবারের বাসযোগ্যতার স্কোর এসেছে ৬১। অথচ গত বছরও তা ছিল ৫৮-এর ঘরে। কিছুটা হলেও উন্নতি চোখে পড়েছে সার্বিকভাবে। যেমন, বিশ্বের বাসযোগ্য অঞ্চলের তালিকার সর্বনিম্নে থাকা সাব সাহারা আফ্রিকার গত বছরের স্কোর ছিল ৫০। এ বছর অঞ্চলটি পেয়েছে ৫৪।
আফ্রিকায় বাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম শহর জোহানেসবার্গ। তবে গতবারের তুলনায় এবার র্যাঙ্কিংয়ে সাত ঘর পিছিয়েছে শহরটি। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন বলছে, সেখানে সরকারি খাত ব্যর্থ হয়েছে। যাদের অর্থ আছে তারা বেসরকারিকে বিকল্প বেছে নিচ্ছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বাসযোগ্য শহরের মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছে আবুধাবি। মূলত স্থিতিশীলতা ও অবকাঠামোতে ভালো নম্বর পেয়েছে শহরটি। অন্যদিকে তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আরেক শহর দুবাই। তৃতীয় হয়েছে ইসরায়েলের তেল আবিব। সম্প্রতি বিচারব্যবস্থা সংস্কারকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলে শুরু হওয়া অস্থিতিশীলতা তাদের নম্বর ব্যাপক হারে কমিয়েছে।
সূচকে সৌদি আরবের বেশ কিছু শহরের স্কোর বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। সংস্কৃতি ও পরিবেশ শ্রেণিতে নম্বর বৃদ্ধি পেয়েছে তাদের। তালিকায় নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিরিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত রাজধানী দামেস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ আবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফেরার সুযোগ পেলেও তার দেশের জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান ততটা উন্নত হয়নি। এটি খুব দ্রুত পরিবর্তন হবে বলেও মনে করছেন না পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র : ইকোনমিস্ট