× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অস্তিত্বের সংকটে ফেলবে আদিকালের জীবাণুরা

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৩ ২২:১৭ পিএম

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩ ০০:৪৬ এএম

অস্তিত্বের সংকটে ফেলবে আদিকালের জীবাণুরা

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ক্রমাগত গলছে সুমেরু বৃত্ত তথা আর্কটিক অঞ্চলের হিমবাহ ও বরফ জমাট মাটি (পারমাফ্রস্ট সয়েল)। আর এ বরফের মধ্যে হাজার হাজার বছর আগের তথা প্রাগৈতিহাসিক কালের জীবাণুরা সুপ্ত অবস্থায় রয়েছে। বরফ গলে যাওয়ায় এসব সুপ্ত জীবাণুর পুনরুত্থান ঘটতে যাচ্ছে, যা সংক্রমণের মাধ্যমে মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। 

এসব জীবাণু কতটুকু ঝুঁকি বহন করছে, তা নিয়ে ইউরোপীয় কমিশন জয়েন্ট রিসার্চ সেন্টারের একটি নতুন বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিবেদন পিএলওএস কম্পিউটেশনাল বায়োলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণায় প্রাচীনকালের জীবাণুদের উত্থানের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ঝুঁকি নির্ণয় করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জীবাণুর ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করে সিমুলেটেড পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। 

গবেষকরা মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির তৈরি আভিদা নামের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছেন। গবেষকরা দেখেছেন, বরফ জমাট মাটিতে সুপ্ত অবস্থায় থাকা প্যাথোজেনগুলো আধুনিক বিশ্বেও বেঁচে থাকতে এবং প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম। 

প্যাথোজেনগুলো মানুষ নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে

সুপ্ত অবস্থা বা ডরমেন্সি পিরিয়ড থেকে প্রাণ ফিরে পাওয়া এসব জীবাণুর তিন শতাংশ বর্তমান বিশ্বের নতুন পরিবেশে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এক শতাংশ জীবাণু অভাবনীয় ফল বয়ে আনতে পারে। এসব জীবাণু অতীতে আক্রমণ করা প্রজাতিগুলোর এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল।

প্রতিকূল পরিবেশে অনেক জীব সুপ্ত অবস্থায় চলে যায়। তারা এ সময় বেড়ে ওঠে না। শারীরিক কর্মকাণ্ড থেমে যায়। নিষ্ক্রিয় বা সুপ্ত থাকে। পরিবেশ অনুকূল হলেই তারা প্রাণ ফিরে পায়। একে ডরমেন্সি পিরিয়ড বলা হয়। যেমন শীতকালে গাছপালা ডরমেন্সিতে চলে যায়। এ সময় গাছের বৃদ্ধির ঘটে না।

সুপ্ত অবস্থা থেকে প্রাণ ফিরে পাওয়া এই এক শতাংশ জীবাণুর ঝুঁকিগুলো ছোট বলে মনে হতে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, এসব জীবাণুর প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত বিপজ্জনক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ড. জিওভানি স্ট্রোনা বলেছেন, ‘প্রথমবারের মতো আমরা উন্নত কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এই টাইম-ট্রাভেলিং প্যাথোজেনগুলোর ঝুঁকির একটি বিস্তৃত বিশ্লেষণ প্রদান করেছি। আমরা দেখেছি যে, আক্রমণকারী প্যাথোজেনগুলো বর্তমান এই বিশ্বে বেঁচে থাকতে পারে, বিবর্তিত হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে সমাজে স্থায়ী ও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে, যা সংক্রমণের মাধ্যমে জীবিত প্রজাতির সংখ্যা যথেষ্ট পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই আমাদের অনুসন্ধানগুলো পরামর্শ দেয়, এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে সীমাবদ্ধ অপ্রত্যাশিত হুমকিগুলো বাস্তবে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।’

ফ্লিন্ডার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কোরি ব্র্যাডশো বলেছেন, নতুন অনুসন্ধানগুলো দেখায় যে, অজানা রোগজীবাণু আক্রমণের ঝুঁকি উদ্বেগের কারণ এবং এটিকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের ফলাফল উদ্বেগজনক। কারণ বর্তমানে পারমাফ্রস্ট এবং বরফের মধ্যে আটকে থাকা প্যাথোজেনগুলো গুরুতর পরিবেশগত প্রভাব তৈরি করতে পারে। কারণ একটিমাত্র জীবাণু অতীতে সংক্রমিত প্রজাতির ৩০ শতাংশকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে। 

কোরি ব্র্যাডশো বলেন, ‘আমাদের এই প্রাচীন জীবাণুগুলোর দ্বারা সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে হবে, যাতে আমরা আধুনিক বিশ্বে তাদের সংক্রমণের পরিণতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি। আমাদের গবেষণার ফলগুলো আমাদের বলছে, ঝুঁকিটি আর কেবল একটি কল্পনা নয়, এসব আদিকালের জীবাণু থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের প্রস্তুত হওয়া উচিত নয়।’

বিজ্ঞানীরা ৪৬ হাজার বছর আগে হিমায়িত কৃমিকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এর আগে ২০০৩ সালে কিংহাই-তিব্বত মালভূমিতে বরফের নিচ থেকে নেওয়া নমুনা থেকে ব্যাকটেরিয়া পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। সেই বরফের বয়স ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার বছরেরও বেশি।

২০১৪ সালে ৩০ হাজার বছরের পুরোনো সাইবেরিয়ান পারমাফ্রস্ট থেকে একটি দৈত্যাকার ‘জম্বি’ পিথোভাইরাস সাইবেরিকাম ভাইরাস পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল।

২০১৬ সালের আগস্টে সুমেরু বৃত্তের (আর্কটিক সার্কেল) মধ্যকার রাশিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দুর্গম অঞ্চল সাইবেরিয়ান তুন্দ্রায় (ইয়ামাল উপদ্বীপ নামে পরিচিত) অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ১২ বছরের এক বালক। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আরও কমপক্ষে ২০ জন লোক। ওই অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের কারণ হিসেবে বলা হয়, ৭৫ বছরের বেশি সময় আগে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে কোনো বলগা হরিণ মারা যায়। এরপর ওই পশুর বরফ জমাট মৃতদেহ বরফ জমাট মাটির একটি স্তরে আটকা থাকে। ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে উষ্ণবায়ু প্রবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই মৃতদেহটি সেখানেই ছিল। উষ্ণ বায়ু প্রবাহিত হওয়ার পর বরফ গলতে শুরু করলে ওই মৃতদেহ থেকে ছড়িয়ে পড়ে অ্যানথ্রাক্স। প্রথমে ওই জীবাণু আশপাশের পানি ও মাটিতে ছড়ায়। পরবর্তী সময়ে খাবারের মধ্যে ছড়ায়। ওই অঞ্চলের দুই সহস্রাধিক বলগা হরিণ ওই অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়। 

বিশ্ব অভাবনীয় হারে উষ্ণ হচ্ছে। আর্কটিকের মতো শীতল অঞ্চল উষ্ণ হওয়ার হার চারগুণ বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, পারমাফ্রস্ট সয়েল ও বরফ গলার কারণে প্রতিবছর চার সেক্সটিলিয়ন (৪ এরপর ২১টি শূন্য) সংখ্যক অণুজীব বরফ থেকে মুক্তি লাভ করবে, যা আনুমানিক মহাবিশ্বের নক্ষত্রের সংখ্যার সমান। সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট, দ্য হিন্দু, বিবিসি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা