প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৩ ১১:০৭ এএম
আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৩ ১২:০৮ পিএম
বাসমতী চাল রপ্তানির সুযোগ ভারতের কৃষকের জন্য থাকছে। ছবি : সংগৃহীত
ভারতে চলতি বছর ভারী বৃষ্টিপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া
গত ১২ মাসে দেশটিতে চালের দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে
চালের মূল্যবৃদ্ধি এড়াতে বাসমতী নয় এমন চালের ক্ষেত্রে রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত।
এর আগে চলতি সপ্তাহেই ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চাল
রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত সরকার।
দেশটির ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রণালয় রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার সময় আরও জানায়,
পুরো বিশ্বে বাসমতী নয় এমন সাদা শস্যের রপ্তানির এক-চতুর্থাংশই ভারত থেকে হয়। হারগ্রেভস
ল্যানসডাউনের বিনিয়োগ বিশ্লেষণ ও গবেষণার প্রধান এমা ওয়ালের মতে, ভারতের নেওয়া এ সিদ্ধান্ত
নিশ্চিতভাবেই বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সবচেয়ে শঙ্কার বিষয়টি হলো ভারতের এ সিদ্ধান্ত গরিব দেশগুলোয় বেশি
প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। কারণ বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক দেশটির বাসমতী নয় এমন
চালের ক্রেতা মূলত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো।
সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে খাদ্যশস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে বেরিয়ে
এসেছে রাশিয়া। বিকল্প পথ না পেলে কার্যত এর মাধ্যমে ইউক্রেনের গম রপ্তানির পথ বন্ধ
হয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে এর
প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
এর আগে গত বছর ভারত সরকার খাদ্যপণ্য রপ্তানি নিরুৎসাহ করার জন্য
২০ শতাংশ রপ্তানি কর আরোপ করেছিল; যা শুধু চালই নয়, চিনি ও গমের চালানের রপ্তানিও সীমিত
করেছিল। যদিও রপ্তানি ভারতীয় কৃষকের জন্য অভ্যন্তরীণভাবে বিক্রির চেয়ে বেশি লাভজনক।
তবে সরকার বলেছে, কৃষক বাসমতীসহ অন্য যেসব দামি চাল রয়েছে
তা আন্তর্জাতিক বাজারে লাভজনক দামের সুবিধা পেতে রপ্তানির সুযোগ পাবেন। বৈদেশিক
বাণিজ্য দপ্তরও বলছে, রাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তার প্রয়োজনের ভিত্তিতে অন্যান্য দেশে রপ্তানির
অনুমতি দেওয়ার অনুরোধগুলোও বিবেচনা করা হবে।
গত বছর ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে কয়েক ধাপে বিশ্বব্যাপী
খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। যদিও খাদ্যমূল্যের দাম বৃদ্ধির এই চাপ আন্তর্জাতিক স্তরে এখন
কিছুটা কমে এলেও ভারতের ক্ষেত্রে তা হয়নি। দেশটিতে খারাপ আবহাওয়া উত্তরের রাজ্যগুলোর
ফসলি জমির অনেক ক্ষতি করেছে; যার ফলে স্থানীয় বাজারে টম্যাটো, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয়
খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
মে থেকে জুন পর্যন্ত ভারতে সবজির দাম বেড়েছে ১২ শতাংশ, যা জীবনযাত্রার
ক্রমবর্ধমান ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলছে। দেশটিতে গত মাসে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে ৪.৮ শতাংশ।
ভারত চাল রপ্তানি বন্ধের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে এর দাম বৃদ্ধি
ঠেকাতে চাওয়ার অন্যতম বড় কারণ হলো জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় আগামী জাতীয় নির্বাচনের
আগে ভারত সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি আগামী মাসেও দেশটিতে রাজ্য
পর্যায়ের নির্বাচনেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
তবে ভারত সরকারের নেওয়া এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করেননি
কৃষিনীতি বিশেষজ্ঞ দেবিন্দর শর্মা। তার মতে, সরকার আসলে একটি আসন্ন উৎপাদন ঘাটতির
আলোকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ জলবায়ুভিত্তিক পরিবর্তন এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণে
ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলো বৃষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে চাল উৎপাদন হ্রাস পাবে।
দেবিন্দর শর্মা বলেন, ‘সরকার এটি খুব সতর্কতামূলক পদ্ধতি গ্রহণ করেছে।’
সূত্র : বিবিসি