কৃষ্ণ সাগর শস্যচুক্তি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১৪:১৬ পিএম
আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১৪:৪১ পিএম
কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের শস্যবাহী একটা কার্গো। সম্প্রতি তোলা। ছবি : সংগৃহীত
কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির চুক্তির মেয়াদ আজ সোমবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ১২টায় শেষ হবে। চুক্তিটার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টা নির্ভর করছে রাশিয়ার ওপর। এ পরিস্থিতিতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মধ্যস্থতাকারী জাতিসংঘ ও তুরস্ক মস্কোর সম্মতির জন্য অপেক্ষা করছে।
তুরস্কে অবস্থানকারী জাতিসংঘের কর্মকর্তারা আলজাজিরাকে জানান, তারা মস্কোর সাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের বিশ্বাস, শেষ মুহূর্তে রাশিয়া ইতিবাচক সাড়া দেবে।
রাশিয়ার হামলার পর কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। রাশিয়ার শস্যের ওপর সরাসরি না থাকলেও পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে শস্য রপ্তানির পাওনা আদায়, কার্গোর লাইসেন্স ও ইনস্যুরেন্স নিয়ে ঝামেলায় পড়ে রাশিয়া।
এ অবস্থায় ২০২২ সালের জুলাইয়ে তুরস্ক ও জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী কৃষ্ণ সাগর দিয়ে শস্য রপ্তানিতে ইউক্রেনকে বাধা দেবে না রাশিয়া। বিনিময়ে রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানি সংক্রান্ত জটিলতা অপসারণ করা হবে। এ পর্যন্ত চুক্তিটার মেয়াদ তিন দফায় বাড়ানো হয়েছে।
শস্যচুক্তির আরেকটা বড় কারণ ছিল, যেসব গরিব দেশে খাদ্যের দাম বিপুল বেড়েছে, ইউক্রেনের শস্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই সব দেশে পাঠানো হবে।
কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া অভিযোগ করে, চুক্তি ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা হয়নি। রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানির বাধা অপসারণ করা হয়নি। গরিব দেশের পরিবর্তে ইউক্রেনের শস্য যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন ধনী দেশে। এ অবস্থায় শস্যচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো কারণ নেই।
জাতিসংঘের দাবি-- না, ইউক্রেনের শস্য অগ্রধিকার ভিত্তিতে গরিব দেশেই পাঠানো হচ্ছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে চুক্তি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন শস্য রপ্তানি করেছে ইউক্রেন।
বিশ্বের তিন মহাদেশের ৪৫টি দেশে এসব শস্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ গেছে এশিয়ায়, ১২ শতাংশ গেছে আফ্রিকায়, ১ শতাংশ পূর্ব ইউরোপে আর ৪০ শতাংশ গেছে পশ্চিম ইউরোপে।
সূত্র : আলজাজিরা