প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৩ ১৪:১০ পিএম
শরণার্থীরা ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য তিউনিশিয়াকে ব্যবহার করছে। ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং তিউনিশিয়া।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রবিবার (১৬ জুলাই) তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা করেছেন।
কারণ, তিউনিসিয়া থেকে অভিবাসী ও উদ্বাস্তুদের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বক্তৃতাকালে ভন ডের লেয়েন ওই চুক্তিকে ‘সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতার’ বিনিয়োগ হিসাবে অভিহিত করে স্বাগত জানান।
তিনি বলেন, ‘তিউনিশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাস ভূগোল দ্বারা আবদ্ধ এবং আমরা কৌশলগত স্বার্থ ভাগ করছি।’
তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ বলেন, ‘অমানবিক অভিবাসন জানান দিচ্ছে যে, এই সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি সম্মিলিত চুক্তি।’
অবৈধ অবিবাসনের জন্য তিনি অপরাধী নেটওয়ার্ককে দায়ী করেন।
ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে এক টুইটার পোস্টে বলেছেন, ‘এই চুক্তি মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিতে মানব পাচারকারী এবং মানব পাচারকারীদের ব্যবসায়িক মডেলকে ব্যাহত করা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং নিবন্ধন ও প্রত্যাবর্তন উন্নত করার বিষয় রয়েছে। এক কথায় অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রচেষ্টা জোরদার করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রয়েছে এই চুক্তিতে।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় ওই নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ স্বাগত জানিয়েছেন এবং ২৩ জুলাই অভিবাসন সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট সাইদকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-এই তিন ইউরোপীয় নেতা গত মাসে তিউনিশিয়া সফর করেছিলেন এবং ইউরোপীয় কমিশন সে সময় বলেছিল যে, তারা ৯০০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত প্যাকেজ দিয়ে তিউনিশিয়াকে সহায়তা করার কথা বিবেচনা করছেন।
কারণ, দেশটি অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং ক্রমবর্ধমান অবৈধ অভিবাসীদের কারণে বিপর্যস্ত। শরণার্থীরা ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য তিউনিশিয়াকে ব্যবহার করছে।
অভিবাসন সম্পর্কে ভন ডের লেইন বলেন, ‘আমাদের আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিউনিশিয়ার সঙ্গে চোরাচালান বিরোধী কাজ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে করবে ইইউ।
ভন ডের লেইন বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সমন্বয় বাড়াবে এবং উভয় পক্ষই সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে।
গত শুক্রবার পর্যন্ত ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসী গণনা করেছে, যারা বছরের শুরু থেকে ইতালীয় উপকূলে নৌকায় করে এসেছেন।
সূত্র : আলজাজিরা