প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৩ ১৫:৫৬ পিএম
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩ ১৬:১৬ পিএম
ওয়াগনারপ্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। ছবি : সংগৃহীত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চাপের মুখে রণে ভঙ্গ দেওয়ার পর সোমবার (২৬ জুন) এক অডিওবার্তায় ভাড়াটে সেনাগ্রুপ ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন বলেছেন, ‘বিদ্রোহ নয়, বরং পুতিনের সরকার এবং তার সেনাবাহিনীর আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পথে নেমেছিল ওয়াগনার বাহিনী।’
তিনি আরও বলেন, ‘রুশ ভাই-বোনদের রক্ত ঝরার আশঙ্কা এড়াতেই আমরা মস্কোর রাজপথে প্রতিবাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছিলাম।’
প্রিগোজিন বলেন, ‘ওয়াগনার যোদ্ধারা নিজ বাহিনীর ধ্বংস রোধ করার জন্য প্রতিবাদ করেছিল মাত্র। রাশিয়ার সরকারের পতন ঘটাতে চায়নি তারা।’
শনিবার জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ হোটেল ব্যবসায়ী প্রিগোজিনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে চিহ্নিত করে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন পুতিন।
তার পরই বেলারুশের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ছেড়ে বেলারুশে পাড়ি দেন প্রিগোজিন। পুতিনের ‘বার্তা’ পেয়ে মধ্যস্থতা করে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজ়ন্ডার লুকাশেঙ্কো তার দেশে আশ্রয় দেন প্রিগোজিনকে।
ওয়াগনার যোদ্ধারা রবিবারই বিদ্রোহের ইতি টানার কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে তারা রাশিয়া বাহিনীর সহযোগী হয়ে লড়াইয়ে ফিরতে শুরু করেছে বলেও প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে জানানো হয়েছে।
প্রিগোজিনের ওই ভাড়াটে বাহিনী রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অংশ নয়। কিন্তু দেড় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে তারা রুশ বাহিনীর সহযোগী হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। অতীতে লিবিয়া, সিরিয়া, মোজাম্বিক, সুদানের মতো দেশে গৃহযুদ্ধেও লড়েছে প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধার এই পেশাদার ভাড়াটে বাহিনী।
ইউক্রেন যুদ্ধের কৌশল নির্ধারণ নিয়ে কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এবং সেনাপ্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভের সঙ্গে মতবিরোধ চলছিল প্রিগোজিনের।
রাশিয়ার সেনাবাহিনী পরিকল্পিতভাবে ওয়াগনার যোদ্ধাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে সরাসরি মস্কোর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে ধরেছিলেন প্রিগোজিনের ভাড়াটে যোদ্ধারা। ইউক্রেনের সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে বড় অভিযান শুরু করে বিদ্রোহী ওয়াগনার বাহিনীর কয়েক হাজার যোদ্ধা।
গত শুক্রবার ইউক্রেন সীমান্ত লাগোয়া রোস্তভ-অন-ডন শহরের দখল নেওয়ার পর শনিবার সকালে ইউক্রেন সীমান্তের অদূরে পশ্চিম রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর ভোরোনেজ় কব্জা করে বিদ্রোহী ভাড়াটে বাহিনী। ওই এলাকা থেকে মস্কোর দূরত্ব প্রায় হাজার কিলোমিটার।
এর পর মস্কোর দিকে আরও কয়েকশ কিলোমিটার এগিয়ে লিপেৎস্কেতে ঢুকে পড়ে তারা।
এর পরই দ্রুত সক্রিয় হয় পুতিন সরকার। আকাশপথে ওয়াগনার যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানোর পাশাপাশি ইউক্রেনে থাকা প্রিগোজিন বাহিনীর বিরুদ্ধে নামানো হয় নৃশংস চেচেন কমান্ডার রমজান কাদিরভের মিলিশিয়া বাহিনীকে।
পাশাপাশি লুকাশেঙ্কোকে ফোন করে তার ঘনিষ্ঠ প্রিগোজিনকে নিরস্ত করার বার্তা পাঠান পুতিন। আর তাতে ফল মেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
সূত্র : আলজাজিরা