প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৩ ১৮:১৯ পিএম
আপডেট : ০৮ জুন ২০২৩ ২১:০৯ পিএম
বুধবার সন্ধ্যায় সরস্বতীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মনোজকে। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মুম্বাইয়ে ৩২ বছর বয়সি সরস্বতী বৈদ্যকে অশান্তির জেরেই নৃশংসভাবে হত্যা করেন তার ৫৬ বছর বয়সি সঙ্গী মনোজ সাহানি।
প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটিই জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় সরস্বতীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় মনোজকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মনোজের একটি রেশনের দোকান ছিল বোরিভালিতে। সেই রেশনের দোকানে যাতায়াত ছিল সরস্বতীর। বছর দশেক আগে সেখান থেকেই মনোজের সঙ্গে সরস্বতীর আলাপ হয়। তার পর থেকে সেই সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
পুলিশের কাছে মনোজ স্বীকার করেছেন যে তাদের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। তবে তিনি দাবি করেছেন, সরস্বতী আগেই আত্মহত্যা করেছিলেন। যদিও মনোজের এ তথ্য আমলে নেয়নি পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, অন্য একটি ঘটনায় (শ্রদ্ধা হত্যাকাণ্ড) ‘অনুপ্রাণিত’ হয়েই লিভ ইন সঙ্গীকে খুন করে দেহ টুকরো করে লোপাটের চেষ্টা করেন মনোজ।
মনোজের এক প্রতিবেশী সোমেশ শ্রীবাস্তব সংবাদমাধ্যমকে জানান, মীরা রোডের আবাসনের আট তলার একটি ফ্ল্যাটে তিন বছর ধরে বাস করছিলেন সরস্বতী ও মনোজ।
কয়েক দিন ধরেই ওই ফ্ল্যাট থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। কীসের গন্ধ তা জানতে মনোজদের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন সোমেশ। কিন্তু দরজার কড়া নাড়ার পরেও কেউ বেরিয়ে আসেননি। তবে ঘরের ভেতর কিছু স্প্রে করার শব্দ পেয়েছিলেন তিনি।
এতে সন্দেহ হওয়ায় সোমেশ নয়ানগর থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভাঙতেই দুটি করাত উদ্ধার করে। রান্নাঘর, বাথরুমে বালতি থেকে টুকরো টুকরো করা দেহাংশও উদ্ধার করে তারা। কিছু দেহাংশ গায়েব বলেও জানিয়েছে পুলিশ। রান্নাঘরে সরস্বতীর দুটি বিচ্ছিন্ন পা রাখা ছিল। সেগুলোকে সেদ্ধ করার তোড়জোড় চলছিল।
মনোজ জানান, গায়েব দেহাংশ সেদ্ধ করে সে কুকুরদের খাইয়েছে।
কিন্তু পুলিশ এই বয়ান মানতে নারাজ। তাদের ধারণা, গায়েব হওয়া দেহাংশ অন্য কোথাও ফেলে এসেছেন মনোজ।
পুলিশ জানিয়েছে, ৪ জুন খুন করা হয় সরস্বতীকে। তারপর তার দেহ টুকরো করা শুরু করেন মনোজ।
সূত্র : এনডিটিভি