প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৩ ১৩:৩৯ পিএম
গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার রিচার্ডস বে’তে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য দেশের সামরিক কর্মকর্তারা। ছবি : আলজাজিরা
দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাপ্রধান রাশিয়ার সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার জন্য মস্কো সফর করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গোপনে রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের ওয়াশিংটনের অভিযোগের কয়েক দিন পরই তিনি এ সফর করলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্স (এসএএনডিএফ) সোমবার (১৫ মে) জানিয়েছে, ‘দুই সেনাপ্রধানের ওই বৈঠক একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর আমন্ত্রণে এটি একটি শুভেচ্ছা সফর।’
এসএএনডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এসএ সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল লরেন্স এমবাথা দুটি সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য মস্কোয় রয়েছেন।’
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা নিজ মহাদেশ এবং তার বাইরের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক রেখেছে। এসএএনডিএফ অসংখ্য সামরিক প্রতিনিধিদল গ্রহণ করে এবং পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য অন্যান্য দেশে তাদের নিজস্ব প্রতিনিধিদল পাঠায়।’
সোমবার রাশিয়ার সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ‘এমবাথা একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন, যা সামরিক সহযোগিতা এবং সমন্বয় সম্পর্কিত সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছে।’
এমবাথা রাশিয়ার সেনাবাহিনীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের উদ্যোগ পরিদর্শন করেছেন।
রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্থলবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর জন্য চুক্তি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে প্রিটোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রুবেন ব্রিগেটি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে অস্ত্র ও গোলাবারুদ একটি রাশিয়ার মালবাহী জাহাজে লোড করা হয়েছিল, যা ডিসেম্বরে কেপটাউন নৌঘাঁটিতে নোঙর করেছিল।‘
রাশিয়ার কাছে গোপন অস্ত্রের চালানের দাবির বিপরীতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসা।
তিনি তখন বলেছিলেন, বিষয়টির তদন্ত করা হবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন, যোগাযোগমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা গত ডিসেম্বরে রাশিয়ায় কোনো অস্ত্রের চালান অনুমোদন করেনি।’
যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রামাফোসার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
ফোনকলে উভয় নেতা ক্রেমলিনের মতে ‘পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক জোরদার করতে’ সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রামাফোসা সোমবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, তার দেশ ইউক্রেনকে নিয়ে ‘বৈশ্বিক শক্তির মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতায়’ অংশ নেবে না।
রামাফোসা সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পুতিন আগস্টে ব্রিকস অর্থনৈতিক ব্লকের নেতাদের বৈঠকের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবেন।
যদিও পুতিনের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি ক্রেমলিন।
পুতিনের এ সফর দক্ষিণ আফ্রিকাকে কূটনৈতিক বিশ্বে সমস্যায় ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
কারণ দেশটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী।
ইউক্রেন থেকে শিশুদের অপহরণের সঙ্গে জড়িত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গত মার্চে পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আইসিসি।
অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে শুধু রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোয় ভ্রমণ করেছেন পুতিন।
সূত্র : আলজাজিরা