× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সতর্কতা

বৈশ্বিক তাপমাত্রা অনেক বাড়াতে পারে এল নিনো

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৩ ২২:০০ পিএম

বৈশ্বিক তাপমাত্রা অনেক বাড়াতে পারে এল নিনো

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, সম্ভবত চলতি বছরের শেষের দিকে এল নিনো জলবায়ু প্যাটার্ন আবির্ভূত হতে পারে। এই এল নিনো বিশ্ব উষ্ণায়নকে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।

জাতিসংঘের এ সংস্থাটি বলেছে, তারা এখনও এল নিনোর শক্তি এবং সময়কালের পূর্বাভাস দিতে পারে না। তবে সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি মে থেকে আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এল নিনোর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। আর জুলাই ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি তৈরি হওয়ার ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলে ঘটে যাওয়া সাউদার্ন অসিলেশন বা এনসো চক্রের দুটি বিপরীত অবস্থা হলো এল নিনো ও লা নিনা। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে জলবায়ুর এই দুটি ধরন সৃষ্টি হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় পূর্ব উপকূলে আন্তর্জাতিক তারিখরেখা ও ১২০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ ও বায়ুণ্ডলীয় তাপমাত্রার তারতম্য বোঝাতে এনসো শব্দটি ব্যবহার করা হয়। লা নিনা হলো এনসোর শীতল অবস্থা এবং এল নিনো দ্বারা উষ্ণ অবস্থা বোঝানো হয়। 

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পেরু ইকুয়েডর উপকূল বরাবর কোনো কোনো বছর ডিসেম্বরে একধরনের দক্ষিণমুখী উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রবাহ লক্ষ করা যায়, একে এল নিনো বলা হয়ে থাকে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর এবং গড়ে প্রায় চার বছর পরপর এল নিনোর আবির্ভাব হয়ে থাকে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরের উভয় উপকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল পেটেরি তালাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, তিন বছর ধরে শীতল লা নিনা প্যাটার্নের জলবায়ু বিদ্যমান রয়েছে। লা নিনা বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অস্থায়ী বাধা হিসেবে কাজ করে। লা নিনার প্রভাব সত্ত্বেও পৃথিবী উষ্ণতম বছর অনুভব করেছে।

পেটেরি তালাস বলেন, এল নিনোর প্রভাবে সম্ভবত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বড় ধরনের বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে এবং তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, এল নিনো বিশ্বের বিভিন্ন অংশে বর্ধিত খরা বা বৃষ্টিপাতের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

প্রাকৃতিকভাবে ঘটতে থাকা জলবায়ু প্যাটার্ন এল নিনোর সঙ্গে সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চল, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার কিছু অংশে বাড়তি বৃষ্টিপাতের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এল নিনোর প্রভাবে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে মারাত্মক খরার কারণ হতে পারে।

এল নিনো সাধারণত আটলান্টিক মহাসাগরে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে বাধা দিয়ে থাকে। হারিকেনের তীব্রতা কমিয়ে দেয়। তবে এল নিনোর উষ্ণ জল মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে হারিকেনের তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

ডব্লিউএমও বলেছে, এল নিনো সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসদাতারা বলেছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওপর এল নিনোর প্রভাব সাধারণত এর আবির্ভাবের পরের বছরেই দেখা যায়।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার স্টেট অব দ্য গ্লোবাল ক্লাইমেট রিপোর্ট অনুসারে, শক্তিশালী এল নিনোর ঘটনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ‘দ্বৈত আঘাতের’ কারণে ২০১৬ সাল ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ বছর। 

এল নিনোর সঙ্গে বন্যা, খরা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্পর্ক থাকায় উন্নয়নশীল যেসব দেশ কৃষিকাজ ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, তারা এল নিনো দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে।

সূত্র : সিএনবিসি

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা