প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ২০:০৭ পিএম
আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৩ ২০:৩০ পিএম
আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলছেন ইমরান খান। ৩ এপ্রিল লাহোর নিজের বাসভবনে। ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ সরকারের কোনো জনভিত্তি নেই। তাই যথাসময়ে নির্বাচন দিতে তাদের ভয় রয়েছে। তারা ক্ষমতার লোভে ঠিক সময়ে নির্বাচন না দিয়ে সংবিধানও লঙ্ঘন করতে পারে।
আল-জাজিরাকে সোমবার (৩ এপ্রিল) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এসব কথা বলেছেন।
ইমরান খান বলেন, ‘সম্প্রতি যতগুলো জরিপ হয়েছে প্রায় সবগুলোয় দেখা গেছে ক্ষমতাসীন জোট সরকার বিপুল ব্যবধানে হারবে। তাই নির্বাচনে হারার ভয় তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। এ অবস্থায় ক্ষমতায় থাকতে তারা সংবিধানও লঙ্ঘন করতে পারে।’
‘পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আমার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ক্ষমতায় ছিল। গত জানুয়ারিতে আমরা বিধানসভা দুটি ভেঙে দিই। এটা করার আগে আমরা দেশের শীর্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে বসে ছিলাম। তারা বলেছেন, বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন বাধ্য। কিন্তু তারা ছিনিমিনি খেলছিল। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে তা সম্ভব হয়নি।’
এক দিন আগে (রবিবার, ২ এপ্রিল) পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া এক রায়ের দিকে ইঙ্গিত করে ইমরান খান উল্লিখিত কথাগুলো বলেছেন। রায়ে ১৪ মে পাঞ্জাব প্রদেশে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।
গত বছরের এপ্রিলে এক অনাস্থা ভোটে অনেক নাটকের পর ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন। এরপর থেকে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন আগেভাগে আয়োজনের জন্য আন্দোলন শুরু করে ইমরান খানের পার্টি পিটিআই।
শাহবাজ সরকারের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে গত জানুয়ারিতে পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের নিজ দলের মুখ্যমন্ত্রীদের প্রতি পদত্যাগের আহ্বান জানান ইমরান খান। পার্টিপ্রধানের কথামতে পুরো মন্ত্রিসভাসহ তারা পদত্যাগ করলে বিধানসভা দুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, বিধানসভা বিলুপ্ত ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়। এ অবস্থায় কিছুটা গড়িমসি শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে ৩০ এপ্রিল পাঞ্জাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে যায় ইমরান খানের পার্টি। রবিবার ওই মামলার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।
সূত্র : আল-জাজিরা