প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৭:৩৮ পিএম
আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৩ ১৮:০৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। ছবি : সংগৃহীত
নজরদারির কাজে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকে কৃষ্ণ সাগরে
নামতে বাধ্য করেছে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান সুখোই-২৭। এ ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ
করছে মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। যদিও এ ইস্যুতে পারমাণবিক শক্তিধর বিশ্বের এই দুই প্রধান
শক্তির সামরিক সংঘাতের কোনো শঙ্কা নেই। কারণ উদ্বেগ জানালেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে কোনো আক্রমণাত্মক বার্তা দেওয়া হয়নি। ক্রেমলিনও আর বিষয়টি বাড়তে দিতে চাইছে না।
যদিও রাশিয়ার বিমানবাহিনীর এই তৎপরতাকে মারাত্মকভাবে অপেশাদার ও
অনিরাপদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্টো ক্রেমলিন প্রশ্ন তুলেছে, রুশ ভূখণ্ডের
কাছে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বিমানের অবস্থানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে।
ইউরোপ ও আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল
জেমস হেকার এ ঘটনা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায়
রুটিন অপারেশন পরিচালনা করছিল। তখন রাশিয়ার যুদ্ধবিমান এটিকে আঘাত করে। এই অনিরাপদ
এবং অপেশাদার কর্মকাণ্ডের জন্য দুটি বিমানই বিধ্বস্ত হতে বসেছিল।’
এদিকে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) এই ড্রোন ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভকে তলব করে। সেখানে ইউরোপীয় ও ইউরেশীয়-বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারেন ডনফ্রিড তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আন্তোনভ। এ সময় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের
ওই ড্রোন ইচ্ছাকৃত ও উস্কানিমূলকভাবে ট্রান্সপন্ডার (রেডিও সংকেত গ্রহণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে
সংকেত প্রেরণ করতে সক্ষম ডিভাইস) বন্ধ করে রুশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করছিল। আমরা একে উস্কানি
হিসেবে দেখছি।’
এ ছাড়া আনাতোলি আন্তোনভ এক টুইটবার্তায় দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের
ড্রোনটি কিয়েভের জন্য গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ডেমোক্রেটিক ককাসের প্রধান সিনেটর চাক শুমার যুক্তরাষ্ট্রের রিপার নজরদারি ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তার সেনাবাহিনীর আরেকটি বেপরোয়া কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পুতিনকে বলতে চাই, অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত বৃদ্ধির কারণ হওয়ার আগে তিনি যেন এই আচরণ বন্ধ করেন।’
আরও পড়ুন : ইউক্রেনের যুদ্ধ রাশিয়ারঅস্তিত্বের লড়াই
রিপার ড্রোনের এই ঘটনায় চলমান সংঘাতের খুবই সংবেদনশীল পর্যায়ে ঘটেছে
বলে মনে করেন ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজের সিনিয়র ফেলো এলিজাবেথ ব্রাও। আর এমন
সময় ঘটনাটি ঘটেছে যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযানকে
পশ্চিমাদের থেকে রাশিয়াকে রক্ষার জন্যই শুরু করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
যদিও পশ্চিমা দেশগুলো শুরু থেকেই বলে আসছে, রাশিয়াই বিনা উস্কানিতে
ইউক্রেনীয় শহরগুলো ধ্বংস করছে এবং হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জোর তৎপরতা চালাচ্ছে রিপার ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করার জন্য, কারণ দেশটি চায়না এ ধরনের সংবেদনশীল প্রযুক্তি রাশিয়ার হাতে গিয়ে পড়ুক।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মারলেস বলেছেন, রাশিয়া
কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। এ ঘটনা ব্যাখ্যা করতে ক্রেমলিনকে আরও বেশি কিছু করা উচিত।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন
বিধ্বস্তের ঘটনায় মস্কোর প্রতি আন্তর্জাতিক আকাশসীমাকে সম্মান করার আহ্বান জানান। তিনি
বলেন, ‘এখানে মূল
বিষয় হলো সব পক্ষই আন্তর্জাতিক আকাশসীমাকে সম্মান করছে এবং আমরা রুশদেরও তা করার অনুরোধ
করছি।’