× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

ইউরোপ যেভাবে আরও যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর হলো

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:২৭ এএম

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১১:৫৭ এএম

কিয়েভ ছাড়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের অপেক্ষায় ক্রন্দনরত এক নারী। ছবি : আলজাজিরা

কিয়েভ ছাড়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের অপেক্ষায় ক্রন্দনরত এক নারী। ছবি : আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের গর্বের দুই প্রতীক বিশ্ব বাণিজ্য টাওয়ার ও সামরিক সদর দপ্তর পেন্টগনে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিমান হামলা হয়। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন শতাব্দীর রক্তাক্ত যাত্রা। 

আল কায়েদাপ্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তর না করার অভিযোগে পরের মাসে আফগানিস্তানে সর্বাত্মক হামলার মধ্য দিয়ে যাত্রা করে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’। 

আফগানিস্তানে ২০ বছর এবং ইরাকে ৯ বছরের যুদ্ধে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো একটি প্রায় অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। মরতে যাওয়া সেই ন্যাটোই ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া থেকে বের হয়ে স্বনির্ভর ভূরাজনৈতিক কৌশলের সন্ধানে থাকা ইউরোপ পেন্টাগনের কানাগলিতে ফের ঢুকে পড়েছে। 

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যে গণমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছিলেন, ন্যাটোর মগজে পচন ধরেছে। তাই নিজেকে রক্ষায় ন্যাটোর ওপর নির্ভর করা ইউরোপের জন্য আর বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ভূরাজনৈতিক কৌশলে এখন আমাদের নিজেদের সাবালক হতে হবে, দাঁড়াতে হবে আপন পায়ে।

ন্যাটো নিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে জার্মানি ও ইতালির তৎকালীন শাসকদের মতের মিল ছিল। ইতালির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসও ইউরোপের প্রতিরক্ষায় ন্যাটো নির্ভরশীলতা কমাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ সেই মহাপরিকল্পনায় গভীর ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে। 

গ্রিসের হেলেনিক ফাউন্ডেশন ফর ইউরোপিয়ান অ্যান্ড ফরেন পলিসি পরিচালক জর্জ প্যাগোলাটোস বলেন, ফ্রান্স-জার্মানি-ইতালি এই তিনটাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মূল শক্তি। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত ইইউ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে এ তিন দেশ অভিন্ন সিদ্ধান্ত নিত। ইইউকে কীভাবে বাঁচানো যায়, সেই বিষয়ে তাদের চিন্তা ছিল কাছাকাছি। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। ইউক্রেন যুদ্ধ সব সমীকরণ বদলে দিয়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে আস্থা ভোটে দ্রাঘির হেরে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে ডানপন্থি জর্জিও মেলেনির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মূলে রয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ। 

গত এপ্রিলের নির্বাচনে মাখোঁ যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি, তারও প্রধানতম কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ। আর শুরুর দিকে ইউক্রেনকে অস্ত্র দিতে গড়িমসি করায় ব্যাপক সুনাম হারিয়েছে জার্মানি।

প্যাগোলাটোসের সিদ্ধান্ত, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের বড় দেশগুলোর শাসকশ্রেণির অবস্থান এবং জনগণের মনোভাব মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এখানে জয়ী হয়েছে জনগণ। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর জনগণ ও শাসকরা যে ভাষ্য তৈরি করেছে, তাই সমগ্র ইউরোপের মূল বয়ানে পরিণত হয়েছে। এই বয়ানের সারমর্ম, যেকোনো মূল্যে এ যুদ্ধে রাশিয়াকে হারাতে হবে, ইউক্রেনকে জিততে হবে।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন ফিনিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষক মিন্না আল্যান্ডার। আল্যান্ডার বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের দ্বিতীয় গালফ যুদ্ধ বা ২০০৩ সালে ইরাক হামলার পর থেকে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নির্ভরশীলতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। জার্মানিসহ পশ্চিম ইউরোপের অনেক দেশ ইরাক হামলার বিরোধী ছিল। কিন্তু বাল্টিক, নর্ডিক ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক হামলার পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নেয়। 

অর্থাৎ জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো ইউরোপের প্রধান সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর ওপর নির্ভর না করে ওইসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ইউক্রেন যুদ্ধে এটা স্পষ্টতর হয়েছে।

আল্যান্ডার আলজাজিরাকে বলেন, বুশের ইরাক ও আফগান নীতি চরম মার খেয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মাখোঁদের ইউরোপের স্বাধীন প্রতিরক্ষা নীতি খালে পানি পায়নি। 

গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে রাজধানী ওয়ারশতে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুদা বলেছেন, এখনও যুক্তরাষ্ট্রই ভরসা। বিশ্বের ভারসাম্য রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া কোনো গতি নেই।

সূত্র: আলজাজিরা 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা