তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্প
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:১১ পিএম
আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২২:১৮ পিএম
দুই দেশে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর মানবেতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তুরস্ক ও সিরিয়ায়। শীতের মধ্যেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অনেকে ঠাঁই নিয়েছেন সুপারমার্কেটের গাড়ি রাখার জায়গায় গড়ে তোলা আশ্রয়স্থলে, রাস্তায়, মসজিদে, ধ্বংসস্তূপে। খাবার, পানি এবং উষ্ণতার অভাবে ভুগছেন প্রায় সবাই।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, দুই দেশে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশে চার সন্তানের মা মুনিরা মোহাম্মদ ভূমিকম্পের পরপরই সন্তানদের নিয়ে বের হয়ে এসেছেন আলেপ্পো থেকে। তিনি বলেন, ‘এখানে সবাই শিশু। আমাদের উষ্ণতা ও সরবরাহ দরকার। গত রাতে শীতের কারণে আমরা ঘুমাতে পারিনি। অবস্থা অনেক খারাপ।’
তুরস্কের শহর কেমালপাশার কাছের এক গ্যাস স্টেশনে মানুষকে সহায়তা হিসেবে আসা বাক্স থেকে কাপড় নিতে দেখা গেছে। বন্দর শহর ইসকেনদেরুনে শত শত মানুষকে বিধ্বস্ত গ্যারেজ ও গুদামে আগুন পোহাতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ বলছে, তুরস্কে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভবন ধসে পড়েছে। আরও অগণিত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 
তুরস্কের মারাসে এক ব্যাংক ভবনের ভেতরে মানুষকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। গোপনতার জন্য জানালের কাঁচ টেপ দিয়ে ঢেকে রেখেছেন তারা। অনেক মূল রাস্তায় ঘাসের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন। নিজেদেরকে মুড়িয়ে নিয়েছেন কম্বলে, আগুন জ্বেলে চেষ্টা করছেন খাবার তৈরির।
আন্তাকিয়ায় হাতেগোণা কয়েকটি পেট্রোল স্টেশনে মিলছে জ্বালানী। সেখানে ফুঁটে উঠেছে আরেক চিত্র। দেখা গেছে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছেন মানুষ।
ভূমিকম্প বিধ্বস্ত শহর জিন্দারিসে দেখা মিলল ইব্রাহিম খলির মেনকাউইন নামের এক ব্যক্তির। হাতে মরদেহ বহনের সাদা ব্যাগ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ইব্রাহিম জানালেন, পরিবারের সাতজনকে হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তার স্ত্রী এবং দুই ভাইও রয়েছেন।
ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার ভাইকে, ভাইয়ের তরুণ ছেলেকে এবং তাদের স্ত্রীদেরকে বের করবেন ওনার। আমি মরদেহগুলোর জন্য ব্যাগ নিয়ে এসেছি, যাতে ব্যাগে করে নিয়ে যেতে পারি। পরিস্থিতি অনেক খারাপ। এবং আমাদের হাতে কোনো সহায়তা নেই।’ সূত্র: রয়টার্স