প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৩৪ পিএম
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:২২ পিএম
ইস্পাহানের একটি সামরিক কারখানায় ড্রোন হামলা হয়েছে। লক্ষবস্তুতে হানার আগেই তা ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বিভাগ। ঘটনাস্থলের ম্যাপ।
ইরানের ইস্পাহান শহরের একটি সামরিক কারখানায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে লক্ষবস্তুতে আঘাত হানার আগেই তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বিভাগ।
ইরানের প্রতিরক্ষা বিভাগ রবিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানায়, তিনটি ড্রোন একযুগে হামলা চালিয়েছে। তবে কোনটিই লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি। একটিকে গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে। আর দুটি ড্রোন আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আটকে গেছে। তাও ধ্বংস করা হয়েছে। জান-মালের কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।
ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রবিবার ভোরে ঘটনাস্থলে বিটক শব্দ শোনা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেছে কথিত সামরিক কারখানায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। কারখানায় বাইরে দমকল বাহিনীর দেখা গেছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইয়ে সামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ইরান। ওই ব্যক্তি দেশটির কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের হয়ে ওই হামলার পরিকল্পনা করছিলেন।
গত কয়েক বছরে ইরানের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও সামরিক স্থাপনায় অনেকগুলো হামলা হয়েছে। ২০২১ সালে দেশটির নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় সাইবার হামলায়। ওই হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে তেহরান।
পাঁচ বিশ্ব শক্তির সঙ্গে ইরানের ২০১৫ সালে করা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে গুরুতর আপত্তি রয়েছে ইসরায়েলের। জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তিটি থেকে ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একতরফ বের হয়ে যায়। এরপর থেকে চুক্তিটি এক ধরনের বাতিল হয়ে পড়ে।
২০২১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে চুক্তিটি নবায়নের চেষ্ট করছে বাইডেন প্রশাসন।
এই চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের দুই ধরনে অবস্থান রয়েছে। একটা অংশ মনে করে, এই চুক্তি হলে ইরানের হাতে বিপুল অর্থ আসবে। ফলে দেশটি নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। মজবুত করবে আঞ্চলিক আধিপত্য।
আরেকটা অংশ মনে করে, জেসিপিওএ নবায়ন হওয়া ভালো। এতে করে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নজরদারিতে থাকবে।
সূত্র: রয়টার্স।