প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৩৩ পিএম
আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:২৬ পিএম
মিসরে চার হাজার ৩০০ বছরের একটি মমি পাওয়া গেছে। দেশটিতে যত মমি পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে এটি প্রাচীনতম বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজেদের আবিষ্কার নিয়ে কথা বলেছেন গবেষক দলের প্রধান জাহি হাওয়াস। ২৬ জানুয়ারি তোলা। ছবি : সংগৃহীত
মমি ও মিসর যেন একাকার হয়ে আছে। প্রাচীনকালে পৃথিবীর ওই অঞ্চলে মৃতদের সংরক্ষণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল তা বিস্ময়কর। গত ১০০ বছরে প্রাচীন সভ্যতার দেশটিতে অজস্র মমি ও নানান ধরনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল আরও কিছু মমি ও কবর সন্ধান পাওয়ার খবর দিয়েছে। এসব প্রত্নতত্ত্বের মধ্যে এমন একটি মমি পাওয়া গেছে যা আনুমানিক চার হাজার ৩০০ বছর আগের বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।
গবেষক দলের প্রধান জাহি হাওয়াস বলেন, ’১৫ মিটার গভীর একটা খাদে এই মমিটা পাওয়া গেছে। দক্ষিণ কায়রোর সাক্কারা কবরস্থানে পাওয়া যাওয়া এই মমিটা প্রাচীন রাজাদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ বংশের বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
‘মিসরে এখন পর্যন্ত যেসব মমি পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে এটিই সবেচেয়ে প্রাচীন ও সম্পূর্ণ। এই মমির নাম হেকাশেপেস। কারুকার্যময় একটি পাথরের কফিনে পাতলা স্বর্ণের আস্তরণে মোড়ানো।’
আরও কী পাওয়া গেছে
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্কারা কবরস্থানে আরও চারটা প্রাচীন কবর পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে খ্রিস্টপূর্ব ২৫ ও ২২ শতাব্দীর ধর্মযাজক পরিদর্শকের কবর অন্যতম। এই ধর্মযাজকের নাম খনুমদ্জেদেফ।
দ্বিতীয় কবরটির নাম উনাস। এটি মূলত একটি পিরামিড। এটি মিসরের ফেরাওদের পঞ্চম বংশের শেষ রাজার কবর। পুরো পিরামিডটি দৈনন্দিন জীবনের নানান দৃশ্য দিয়ে সাজানো।

একটি কবরের ভেতরের অংশ। এই কবরের নাম উনাস। এটি দৈনন্দিন
জীবনের নানান দৃশ্য দিয়ে সাজানো। ছবি: সংগৃহীত
তৃতীয় কবরটিও একজন ধর্মযাজকের। এই ধর্মযাজকের নাম জানা সম্ভব হয়নি। চতুর্থটি একজন বিচারকের। এই বিচারকের নাম ফেতেক।
এসব আবিষ্কারের গুরুত্ব
উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সংযোগস্থাপনকারী দেশ মিসর বর্তমানে গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংকটে থাকা অর্থনীতিটির বড় ভরসার একটি জায়গা দেশটির পর্যটন খাত। ২০২৮ সালের মধ্যে এ খাতে বছরে অন্তত ৩ কোটি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করতে চায় দেশটি। করোনার আগে দেশটিতে বছরে ১ কোটি ৩০ লাখের মতো পর্যটক ভ্রমণ করত।
সূত্র : আলজাজিরা।