প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৪ পিএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:০৯ পিএম
বামপন্থি কাস্তিলোকে অপসারণে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা বোলুয়ার্তের পদত্যাগ চান এবং অবিলম্বে নতুন নির্বাচন চান। ছবি : এএফপি
পেরুতে সরকারবিরোধী
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১৭ জন নিহত
হয়েছে। এক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে সোমবার (৯ জানুয়ারি) এ সহিংসতার ঘটনা ঘটল।
স্থানীয় এক কর্মকর্তার
বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা
দেশটির পুনো অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জুলিয়াকার একটি বিমানবন্দরে হামলা চালায়।
এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। প্রাথমিকভাবে ১২ জন নিহত হয়। আহত হয়
৪০ জন। পরে আহতদের আরও পাঁচজন মারা যান। এ নিয়ে পেরুতে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা
দাঁড়াল ৩৯।
গত এক মাস ধরে বিক্ষোভকারীরা
দেশটির প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত ৭ ডিসেম্বর
সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলোকে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেপ্তারের পর দায়িত্ব গ্রহণ
করেছিলেন দিনা বোলুয়ার্তে।
কাস্তিলোকে ক্ষমতাচ্যুত
করার পর বোলুয়ার্তে সংসদ ভেঙে দেন এবং ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পেরুতে
বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অস্থিতিশীলতা
ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
বামপন্থি কাস্তিলোকে
অপসারণে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা বোলুয়ার্তের পদত্যাগ চান এবং অবিলম্বে নতুন নির্বাচন
চান।
পেরুর একটি টিভি চ্যানেলকে
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, জুলিয়াকাতে সোমবারের সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিরা গুলিতে
মারা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিক্ষোভকারী এএফপিকে বলেন, ‘পুলিশ আমাদের দিকে গুলি করছে। আমরা
বোলুয়ার্তের পদত্যাগের দাবি জানাই। আমরা তাকে বলতে চাই, মানুষ আপনাকে চায় না এই সত্যটি
গ্রহণ করুন।’
জুলিয়াকার মেয়র অস্কার
ক্যাসেরেস শান্তির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘পেরুভিয়ানরা একে অপরকে হত্যা করছে। আমি শান্ত
থাকার জন্য অনুরোধ করছি।’
নতুন প্রেসিডেন্টের
চিফ অব স্টাফ আলবার্তো ওতারোলা বলেছেন, হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সোমবার বিমানবন্দরের
কাছে এসেছিল। তাদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষ অস্ত্র ও গান পাউডার দিয়ে পুলিশের
ওপর হামলা চালায়।
বলিভিয়ার সীমান্তে
পুনো অঞ্চলে অবস্থিত জুলিয়াকা। আয়মারা আদিবাসী গোষ্ঠীর অনেক লোকের বাস সেখানে। সর্বশেষ
সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে পুনো সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। ৪ জানুয়ারি
সেখানে অনির্দিষ্টকালের হরতাল ঘোষণা করা হয়।
নতুন বছরের শুরু হওয়ার
পর বোলুয়ার্তে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কয়েকদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু সোমবার থেকে আবার
শুরু হলো।
সাবেক কাস্তিলো সরকারের
ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বোলুয়ার্তে। তিনি কাস্তিলোর মতোই একজন বামপন্থি। কিন্তু অনেক
আদিবাসী তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে মনে করেন।
এদিকে সোমবার বোলুয়ার্তে
সরকার বলেছে, তারা বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসকে পেরুতে প্রবেশে বাধা
দিয়েছে। ইভো মোরালেস পেরুর বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়। মোরালেস পেরুর প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বোলুয়ার্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের প্রতি
সমর্থন জানিয়েছেন।