পেরুর নির্বাচিত প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট কেইকো ফুজিমোরি। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর শেষ হাসি হাসলেন রক্ষণশীল নেতা কেইকো ফুজিমোরি।
বামপন্থী প্রার্থী রবের্তো সানচেজকে হারিয়ে লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থীদের পালে আরও এক দফা হাওয়া লাগালেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে পেরুর ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়লেন ৫১ বছর বয়সী এই নেতা। এর আগে ২০২২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলো অভিশংসিত হওয়ার পর পেরুর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন দিনা বোলুয়ার্তে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ৭ জুন অনুষ্ঠিত রানঅফ বা দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে অতি সামান্য ব্যবধানে জয় পেয়েছেন কেইকো। ১ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি ভোটারের মধ্যে সানচেজের চেয়ে মাত্র ৫০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ ধরে বিতর্কিত ব্যালটগুলো যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ৩ জুলাই পেরুর জাতীয় নির্বাচনী জুরি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে বলে কথা রয়েছে।
বিজয়ী হিসেবে নিজের নাম ঘোষিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কেইকো ফুজিমোরি লিখেছেন, ‘আমরা পেরুর সব নাগরিকের জন্য শৃঙ্খলা ও আশার পথে যাত্রার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
পেরুতে গত এক দশকে আটজন প্রেসিডেন্ট বদল হয়েছে। চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, চাঁদাবাজ চক্র ও ভাড়ায় খুনের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। কেইকো ফুজিমোরি তার নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি তার স্বৈরাচারী বাবার মতোই কঠোর হাতে দেশ পরিচালনা করবেন।
কেইকোর বাবা প্রয়াত ও বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট আলবের্তো ফুজিমোরি একসময় পেরুর মাওবাদী বিদ্রোহীদের দমন ও চরম মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন। তবে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পরবর্তীতে তাকে ক্ষমতাচ্যুত, নির্বাসিত ও কারাবরণ করতে হয়।
সব ঠিক থাকলে ২৮ জুলাই পাঁচ বছরের মেয়াদে পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন কেইকো ফুজিমোরি। রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ‘সংঘাতময়’ ভাবমূর্তি থাকলেও এবারের প্রচারণায় নিজেকে অনেকটাই নমনীয় হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন তিনি। তার বেড়ে ওঠা লিমার শীর্ষ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি পেরুর ফার্স্ট লেডি হয়েছিলেন। ওই সময় তার মা প্রকাশ্যে আলবের্তো ফুজিমোরির সঙ্গ ত্যাগ করেছিলেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেন কেইকো।