পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের ভূখণ্ডে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, যা তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। ছবি: বিবিসি
পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান প্রদেশগুলোতে রবিবার বিমান হামলা চালানোর পাশাপাশি স্থলবাহিনীও পাঠিয়েছে।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
সমরকার এই ঘটনাকে ‘কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে নিন্দা জানিয়ে একে ‘অপরাধ ও নৃশংসতা’ বলে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, জঙ্গিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২৯ জন ‘সশস্ত্র জঙ্গি’ নিহত হয়েছে।
‘সম্প্রতি নিরীহ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান এমন ‘জঙ্গিদের আশ্রয়’ দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানের ভেতরে ‘হামলা’ চালায়।
তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে।
অন্যদিকে কাবুলও অতীতে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ‘উসকানিবিহীন হামলা’ চালানোর অভিযোগ করেছে, যাতে বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।
যদিও পাকিস্তানের দাবি, তারা কেবল ‘জঙ্গি’দের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
তবে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় হওয়া আগের যুদ্ধবিরতিগুলোর মতোই সেই সমঝোতাও পরবর্তীতে ভেঙে পড়ে।
সাম্প্রতিক হামলায় পাকিস্তান ও তালেবান সরকারের দেওয়া হতাহতের পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
তালেবান সরকারের দাবি, হামলায় বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তবে পাকিস্তানের বক্তব্য, আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে জঙ্গিদের আস্তানায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
তালেবান কর্মকর্তাদের মতে, পাকতিকা প্রদেশের মান্দিখেল গ্রামে সবচেয় বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এই হামলার আগের দিন শনিবার করাচিতে অবস্থিত সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলায় পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী সিন্ধ রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত হন বলে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
ওই হামলায় তিন ‘জঙ্গি’ও নিহত হয় উল্লেখ করে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, তারা এ ঘটনায় চতুর্থ একজন গ্রেপ্তার করেছেন, যিনি আফগান নাগরিক।
ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) বিচ্ছিন্ন একটি সংগঠন জামাত-উল-আহরার।
টিটিপি এবং জামাত-উল-আহরার অতীতে বিভিন্ন ‘সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত’ থাকার কারণে উভয় সংগঠনই পাকিস্তান ও জাতিসংঘের নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকাভুক্ত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্ত এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও বিমান হামলায় উভয় দেশের কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
এরপর মার্চে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের এক হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়।
জুনের শুরুতে পাকিস্তান আরেক দফা বিমান হামলা চালায়, যাতে ২৬ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের দাবি, ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু।