প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬ ১৩:৩৪ পিএম
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে চলমান গভীর মানবিক সংকট মোকাবিলায় ভারতের কাছে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছে ভারতস্থিত ফিলিস্তিনি দূতাবাস। দূতাবাসের দাবি, ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, চিকিৎসা অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস, মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা এবং ফিলিস্তিনি কর রাজস্ব আটকে রাখার কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
ফিলিস্তিনি দূতাবাসের আবেদনপত্রে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম, ডায়ালাইসিস সামগ্রী এবং হাসপাতালের জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সরকারকে তাদের ‘আরোগ্য মৈত্রী’ উদ্যোগ সক্রিয় করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংকটাপন্ন উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
দূতাবাস এক আবেগঘন বার্তায় প্রশ্ন তুলেছে, “ভারত ও ভারতীয় জনগণ না হলে কে এগিয়ে আসবে? আর এখন না হলে কবে?” তাদের মতে, ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং ঔপনিবেশিক বিরোধী ঐতিহ্যের ভিত্তিতে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৩৬টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ১৯টি আংশিকভাবে চালু রয়েছে এবং সেগুলোও সীমিত জরুরি সেবা দিতে সক্ষম। অ্যানেস্থেশিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন, অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম ও রক্তের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য হাজারো রোগী জরুরি স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে অতিরিক্ত জনাকীর্ণ আশ্রয়শিবির, ভেঙে পড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থা, জমে থাকা বর্জ্য এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা মৃতদেহের কারণে মহামারির ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
ফিলিস্তিনি দূতাবাস জানিয়েছে, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও স্বাস্থ্যখাত মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। কর রাজস্ব আটকে রাখার ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোর অস্ত্রোপচার সক্ষমতা কমে গেছে এবং ওষুধের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
গত বছর সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৬৫ হাজার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৯ হাজার ৫০০টি অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজারের বেশি অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ৫২০টি জরুরি ওষুধের মধ্যে প্রায় ১৮০টি বর্তমানে অনুপস্থিত। এর মধ্যে ৯৭টি ক্যানসার ওষুধের ৫০টিই মজুদে নেই, ফলে প্রায় ৪ হাজার ক্যানসার রোগী তাৎক্ষণিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।
ফিলিস্তিনি দূতাবাসের মতে, দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তা না পৌঁছালে গাজা ও পশ্চিম তীরের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।