খনি থেকে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন। ফাইল ফটো
সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনার ইতিবাচক ফল হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত দেশটি অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করার সুযোগ পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ সোমবার এ সংক্রান্ত একটি ‘সাধারণ লাইসেন্স’ ইস্যু করেছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বার্তায় জানান, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ আলোচনার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও উন্মুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং তাদের দেশে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের কাজ করার অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। মূলত এই সমঝোতার (ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির প্রেক্ষাপটে) ভিত্তিতেই ৬০ দিনের এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সিদ্ধান্তের পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে দুটি ট্যাংকার এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
এছাড়া কেপলারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আরও দুটি সুপার ট্যাংকার (যা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম) পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে একটি ট্যাঙ্কারের গন্তব্য ইরাকের বসরা বন্দর।
তবে যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমান এই জাহাজ চলাচলের হার এখনো বেশ নগণ্য। তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫টি জাহাজ চলাচল করত। সেই হিসেবে বর্তমানের এই গতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সামান্যতম অংশ মাত্র।