জুন মাসে পাকিস্তানের কাশ্মীরের মুজাফফারাবাদে আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির ডাকা ধর্মঘটের সময় জনশূন্য একটি রাস্তার। ছবি: রয়টার্স
সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর।
প্রায় দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ২৪ জন নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবন সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ইসলামাবাদের জন্য একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
কারণ ইসলামাবাদ প্রায়ই ভারত-শাসিত কাশ্মীরে দিল্লির ভিন্নমত দমনের সমালোচনা করে, কিন্তু এখন তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডেই একই ধরনের ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
চলতি বছরের ৯ জুনে জেএএসি একটি ধর্মঘটের ডাক দেয়, তবে এই ধর্মঘটের আগেই অস্থিরতা তৈরি হয়।
জেএএসির প্রতিবাদের মূল কারণ ছিল জুলাইয়ের ২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক বিধানসভা নির্বাচনের ৪৫টি আসনের মধ্যে ১২টি আসন শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত।
এই শরণার্থীরা ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পাকিস্তানে বসবাস করছেন।
সরকারি কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, সংঘর্ষে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
হাজার হাজার জেএএসি সমর্থক বর্তমানে মুজাফফরাবাদের প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করেছে এবং কাশ্মীরের বড় অংশে গণমাধ্যমের প্রবেশ সীমিত করেছে।