প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬ ১৯:৩৬ পিএম
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
চলতি অর্থবছরে পাকিস্তানের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ১০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার তুলে নিয়েছেন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট মূলধন বহিঃপ্রবাহ দাঁড়িয়েছে ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
এসবিপির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে ২৯ কোটি ৮৩ লাখ ডলার বিনিয়োগ করলেও ১০৩ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছেন। ফলে নিট বহিঃপ্রবাহের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
করাচিভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান জেএস গ্লোবাল ক্যাপিটাল লিমিটেডের গবেষণা প্রধান মুহাম্মদ ওয়াকাস গনির মতে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও সুইডেনের বিনিয়োগকারীরাই মোট বহিঃপ্রবাহের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী।
তিনি বলেন, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সূচকে নিম্নতর শ্রেণিতে নামিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক ঝুঁকি-ভীতি বৃদ্ধি পাওয়াই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির প্রধান কারণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবেও বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নিতে শুরু করেন। গনি বলেন, “শুধু পাকিস্তান নয়, অঞ্চলের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকেও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অর্থ প্রত্যাহার করেছেন।”
এদিকে শেহবাজ শরীফের সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও টানা দ্বিতীয় অর্থবছরের মতো পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের চেয়ে অর্থ প্রত্যাহারের পরিমাণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইকোনমিক সার্ভে অব পাকিস্তান ২০২৫-২৬-এ বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বৈদেশিক খাতের উন্নতি, ইতিবাচক সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক এবং সরকারের সংস্কার কর্মসূচির প্রতি আস্থার কারণে শেয়ারবাজারে এই উত্থান ঘটেছে। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে আফগানিস্তানকে ঘিরে উত্তেজনা, আঞ্চলিক অস্থিরতা, তেলের উচ্চ মূল্য, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং দেশীয় মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বাজারে গতি কমে আসে।
বিশ্লেষকদের আশা, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হতে পারে। গনির মতে, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ফলে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ইতিবাচক দিকে মোড় নিতে পারে এবং আগামী অর্থবছরে বিদেশি মূলধনের প্রবাহ আবারও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, “বর্তমান বাজারমূল্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় সুযোগ তৈরি করেছে।”