ইন্ডিয়া টুডে
প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৫ ঘণ্টা আগে
চীনে নির্মিত পাকিস্তানের নতুন পিএনএস হাঙর সাবমেরিনকে করাচিতে স্বাগত জানিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী। ছবি: পাকিস্তান নৌবাহিনী
চীনে নির্মিত পাকিস্তানের হাঙর-শ্রেণির একটি সাবমেরিন করাচিতে পৌঁছেছে।
এরপর দেশটির নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এটি ব্যবহার করে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন।
এই পরিকল্পনাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পরাজয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের কার্যকর নৌ উপস্থিতি প্রায় ছিল না বললেই চলে।
‘হাঙর’ নামটির সঙ্গে ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গর ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইএনএস খুকরি ডুবিয়ে দেয়।
স্বাধীনতার পর কোনো যুদ্ধে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার এটিই ছিল প্রথম ঘটনা এবং পাকিস্তান নৌবাহিনীর সবচেয়ে আলোচিত অভিযানের একটি।
তবে আইএনএস খুকরি ডুবিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি ১৯৭১ সালের যুদ্ধের যুদ্ধের ফলাফলে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
স্থল, আকাশ ও নৌপথে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানিদের চূর্ণ করে বাংলাদেশের মুক্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে এবং শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় পাকিস্তান।
১৯৭১ সালের সেই রক্তাক্ত পরাজয়ের ৫৫ বছর পর আবারও সংবাদ শিরোনামে এসেছে ‘হাঙর’।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত পাকিস্তানের প্রথম হাঙর-শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে।
আর এরই মধ্যে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাবমেরিনটির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে কথা বলছেন, যা পাকিস্তানের নৌ কার্যক্রমের মূল এলাকা আরব সাগরের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও দূরে বিস্তৃত হতে পারে।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, এই সাবমেরিন ইসলামাবাদকে বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দিতে পারে।
পাকিস্তানের নিজস্ব উপকূলীয় অঞ্চল থেকে অনেক দূরের এই এলাকায় ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকে দেশটির নৌ উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত ছিল।
ওই যুদ্ধে পাকিস্তান তার ভূখণ্ডের অর্ধেক হারায় এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়।
পাকিস্তান নৌবাহিনীর ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বেসামরিক ও সামরিক সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
একই সঙ্গে ভারতসহ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মধ্যে নৌ প্রতিযোগিতাও ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে।