প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ৭ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৭ ঘণ্টা আগে
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রাথমিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রাথমিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে ভার্সাই প্রাসাদে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ আয়োজিত একটি নৈশভোজে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ‘পুনর্গঠন’ খাতে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।
তবে যুদ্ধের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে উল্লেখ করেছে, সেই বিষয়টি এখনও চূড়ান্তভাবে সমাধান হয়নি। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে (প্রয়োজনে বাড়তে পারে) আলোচনা করে সমাধান করতে হবে।
দলিলে বলা হয়েছে, উভয় দেশ “সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালাবে”, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যাবে।
এতে বলা হয়েছে, ইরান নিশ্চিত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না- যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্পের প্রধান শর্ত ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ‘কমানো’ হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এর তত্ত্বাবধানে থাকবে।
হরমুজ প্রণালি বিষয়ে বলা হয়েছে, ৬০ দিনের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলে কোনো ফি নেওয়া হবে না। তবে ভবিষ্যতে ফি আরোপের সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, এই উদ্যোগ একটি ‘অর্থনৈতিক বিপর্যয়’ এড়াতে সহায়তা করবে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘ভয়াবহ হামলা’ চালাবে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করা ঠিক হবে না। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘ভালো মানুষ’ বললেও তাকে ‘আরও কিছুটা নরম অবস্থান’ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা নেই এবং ইরান ‘প্রস্তুত’ রয়েছে।
তিনি বলেন, “শত্রু যদি যুক্তির ভাষা না বোঝে, তাহলে আমরা আবার শক্তির ভাষায় ফিরব।”
চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে যায়। এশিয়ার সকালের বাণিজ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮.৭৯ ডলারে দাঁড়ায়, যদিও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এটি এখনও প্রায় ৮ ডলার বেশি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং ৬০ দিন পর জাহাজ চলাচলে ফি আরোপ করা হতে পারে।
চুক্তির প্রথম অংশে বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ’ করা হবে।
তবে ইসরায়েল বলেছে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা নেয়নি। বুধবার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলাও চালিয়েছে তারা।
ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাজনৈতিক দলসহ নিজ দলের অনেকের মধ্যেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রিপাবলিকান সিনেটর বিল ক্যাসিডি এই চুক্তিকে ‘দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল’ বলে মন্তব্য করেন।
টেড ক্রুজও ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যারা আমাদের হত্যা করতে চায়, তাদের হাতে বিলিয়ন ডলার দেওয়া ভালো ধারণা নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য ব্যাখ্যা দেন যে, ইরানকে সরাসরি কোনো অর্থ দেওয়া হচ্ছে না; বরং এটি একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ইরান যদি ‘সহযোগিতামূলক আচরণ’ করে, তাহলে সংযুক্ত আরব আমিরাত সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারে- যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতিতে।
ডেমোক্র্যাটরা এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন। সিনেটর জিন শাহিন বলেন, এটি ‘খুবই খারাপ চুক্তি; এবং এতে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান হয়নি।
তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরুর সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলেছিলেন, এটি তার কোনোটিই অর্জন করতে পারেনি।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান চালায় এবং প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করে।
এরপর থেকে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করে, ফলে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবহন হয়।