প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬ ১৫:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬ ১৮:২৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান আলিবাবা, বিওয়াইডি এবং বাইডুকে ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। পেন্টাগনের প্রকাশিত হালনাগাদ তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত হওয়ায় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান সম্পর্কোন্নয়ন প্রচেষ্টায় নতুন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার প্রকাশিত পেন্টাগনের তালিকায় বলা হয়েছে, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের সামরিক উন্নয়ন ও তথাকথিত ‘মিলিটারি-সিভিল ফিউশন’ কৌশলকে সহায়তা করছে। এই কৌশলের মাধ্যমে চীন বেসামরিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে সামরিক খাতের সঙ্গে সমন্বিত করার চেষ্টা করে।
তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাস। দূতাবাসের এক মুখপাত্র এ পদক্ষেপকে “বৈষম্যমূলক” আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অযৌক্তিকভাবে সম্প্রসারণ করছে। তিনি দাবি করেন, বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী চীনা কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিধি কঠোরভাবে মেনে চলে।
অন্যদিকে, আলিবাবা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবেই চীনা সামরিক বাহিনীর অংশ নয় এবং সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলের সঙ্গেও যুক্ত নয়। কোম্পানিটি নিজেদের অবস্থান রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে।
একইভাবে বাইডু বলেছে, তাদের সামরিক কোম্পানি হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি নেই। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তারা তালিকা থেকে নাম অপসারণে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক যানবাহন নির্মাতাদের অন্যতম বিওয়াইডি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
পেন্টাগনের ‘চীনা সামরিক কোম্পানি’ তালিকাটি প্রথম চালু হয় ২০২১ সালে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮-এ, যা ২০২৫ সালে ছিল ১৩৪।
মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও তাদের নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা চুক্তির জন্য বিবেচনা করা হবে না। এ বিধান চলতি মাসের শেষ দিক থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের চীনবিষয়ক কৌশলগত প্রতিযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যান জন মুলেনার এ পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানিকে অবিলম্বে ডিলিস্ট করা এবং দেশটির সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে তাদের পণ্য অপসারণ করা উচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।